২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্থূলতায় ভুগবে: রিপোর্ট
২০৫০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এবং এক-তৃতীয়াংশ শিশু ও তরুণ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায় হয়ে পড়বে; যা অকাল মৃত্যু, রোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপের 'অকল্পনীয় হুমকি' তৈরি করবে।
ল্যানসেটে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত তিন দশক ধরে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বিস্ময়কর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২.১১ বিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাঁচ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪৯৩ মিলিয়ন শিশু ও তরুণ-তরুণী অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছে, যা ১৯৯০ সালে ছিল যথাক্রমে ৭৩১ মিলিয়ন ও ১৯৮ মিলিয়ন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি জরুরি নীতিগত সংস্কার এবং পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩.৮ বিলিয়ন মানুষ এবং সব শিশু ও তরুণদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ (৭৪৬ মিলিয়ন) স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণায় পূর্বাভাস দিয়েছে যে, শিশু ও তরুণদের মধ্যে স্থূলতার হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাবে (১২১%) এবং ২০৫০ সালের মধ্যে স্থূলতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৩৬০ মিলিয়নে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লেখক প্রফেসর এমানুয়েলা গাকিদু বলেছেন, 'অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার এই নজিরবিহীন বৈশ্বিক মহামারি একটি গভীর ট্র্যাজেডি এবং একটি বিশাল সামাজিক ব্যর্থতা।'
সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ভিন্ন। বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায় হিসেবে বিবেচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অর্ধেকের বেশি আটটি দেশে বাস করছেন: চীন (৪০২ মিলিয়ন), ভারত (১৮০ মিলিয়ন), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৭২ মিলিয়ন), ব্রাজিল (৮৮ মিলিয়ন), রাশিয়া (৭১ মিলিয়ন), মেক্সিকো (৫৮ মিলিয়ন), ইন্দোনেশিয়া (৫২ মিলিয়ন) ও মিশর (৪১ মিলিয়ন)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু এবং তরুণদের মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন (১৩০ মিলিয়ন) শুধু দুটি অঞ্চলে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে- উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।
গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সর্বত্র শিশুদের ওজন আগের প্রজন্মের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে এবং আগের চেয়ে আরও দ্রুত স্থূলতা দেখা দিচ্ছে, যা অল্প বয়সে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ- উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ১৯৬০ এর দশকে জন্মানো প্রায় ৭% পুরুষ ২৫ বছর বয়সে স্থূল ছিল। তবে ১৯৯০ এর দশকে জন্মানো পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি বেড়ে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং ২০১৫ সালে জন্মানো পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ২৫ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ল্যানসেটের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়ে শিশুদের মধ্যে ২০২১ সালে স্থূলতা ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ১৮.৪ শতাংশ হবে এবং একই সময়ে ছেলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা ৯.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫.৫ শতাংশে দাঁড়াবে।
২০৫০ সালে বিশ্বের স্থূলকায় প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে অতিরিক্ত চাপে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়াবে।
সোমবার ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশনের প্রকাশিত দ্বিতীয় গবেষণায়ও দরিদ্র দেশগুলোতে স্থূলতার প্রভাব সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এর লেখকরা লিখেছেন, 'এখন পর্যন্ত উচ্চ বিএমআইয়ের কারণে অকাল মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি নিম্ন ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।'
ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী জোহানা রালস্টন বলেন, 'স্থূলতার স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উল্লেখযোগ্য প্রভাব মোকাবিলা কম সম্পদশালী দেশগুলোর জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।'
তবে গবেষকরা ল্যানসেটের এই গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেছেন।
