Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাটলা যেভাবে শহরের অন্দরে

গ্রামের উঠোনে কিংবা শহরের কোনো ছায়াঘেরা বারান্দায় দড়ির তৈরি খাটলার উপস্থিতি মানেই এক টুকরো স্বস্তি। গরম দুপুরে একটু পা ছড়িয়ে বসা কিংবা সন্ধ্যার আড্ডার আসর—খাটলার উপস্থিতি ঘরে আনে অন্যরকম নান্দনিকতা। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই আসবাব এখন শহুরে ঘরের সৌন্দর্যের নতুন সংযোজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাটলা যেভাবে শহরের অন্দরে

ফিচার

সুস্মিতা চক্রবর্তী মিশু
31 October, 2025, 05:00 pm
Last modified: 31 October, 2025, 05:06 pm

Related News

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে নিহত ২, আহত ৩
  • বিবিএস জরিপ: সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়ায় শীর্ষে নোয়াখালী, সর্বনিম্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • কয়েক হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত নেতার শোভাযাত্রা
  • ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প
  • কক্সবাজারের নতুন ডিসি আ. মান্নান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাটলা যেভাবে শহরের অন্দরে

গ্রামের উঠোনে কিংবা শহরের কোনো ছায়াঘেরা বারান্দায় দড়ির তৈরি খাটলার উপস্থিতি মানেই এক টুকরো স্বস্তি। গরম দুপুরে একটু পা ছড়িয়ে বসা কিংবা সন্ধ্যার আড্ডার আসর—খাটলার উপস্থিতি ঘরে আনে অন্যরকম নান্দনিকতা। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই আসবাব এখন শহুরে ঘরের সৌন্দর্যের নতুন সংযোজন।
সুস্মিতা চক্রবর্তী মিশু
31 October, 2025, 05:00 pm
Last modified: 31 October, 2025, 05:06 pm

"ছোটবেলায় নানীবাড়ি ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা, আর নানীর খাটলাটা ছিল সেই জায়গার সবচেয়ে প্রিয় অংশ," শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে খাটলা নিয়ে স্মৃতিময় আবেগ। চিলতে রোদে রঙিন শৈশবে সময় কাটানো সেই খাটলা যখন কয়েক মাস আগে ফেসবুকে হঠাৎ চোখে পড়ে, তার খুশি তখন আর দেখে কে! 

নস্টালজিয়ার সেই উষ্ণতা ঘরে ফিরিয়ে আনতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। সাব্বিরের সেই আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছে 'সুন্দর' নামের একটি প্রতিষ্ঠান—যারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দড়ির খাটলা পৌঁছে দিচ্ছে শহরের ঘরে ঘরে।

গ্রামের উঠোনে কিংবা শহরের কোনো ছায়াঘেরা বারান্দায় দড়ির তৈরি খাটলার উপস্থিতি মানেই এক টুকরো স্বস্তি। গরম দুপুরে একটু পা ছড়িয়ে বসা কিংবা সন্ধ্যার আড্ডার আসর—খাটলার উপস্থিতি ঘরে আনে অন্যরকম নান্দনিকতা। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই আসবাব এখন শহুরে ঘরের সৌন্দর্যের নতুন সংযোজন।

শ্যামল বিশ্বাস ও সাবিহা আফসানা দম্পতির হাত ধরেই শুরু 'সুন্দর'-এর যাত্রা। ঢাকার মিরপুরে তাদের অস্থায়ী ঠিকানা হলেও শিকড় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখান থেকেই একসময় ঘরে আনা হয়েছিল একটি পুরোনো খাটলা। সেই খাটলাটিই ধীরে ধীরে তাদের বৈঠকখানার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অতিথিরা এলেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ—"কী সুন্দর জিনিস!"

খাটলা, মাচিয়ার সমাহার।

এরই মধ্যে ঘটে যায় আরেকটি ঘটনা। ২০২৪ সালের শেষ দিকে চাকরি ছেড়ে দেন শ্যামল বিশ্বাস। কর্মজীবনের একঘেয়েমি ছেড়ে নতুন কিছু করার ভাবনায় দিশেহারা ছিলেন তিনি। তখন স্ত্রী সাবিহা প্রস্তাব দেন—খাটলাকে ঘিরেই শুরু হোক নতুন উদ্যোগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেহেতু খাটলার জন্যই পরিচিত, তাই ভাবনাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্বিধা করেননি শ্যামল। সেখান থেকেই জন্ম নেয় 'সুন্দর'—যার মূল লক্ষ্য ঐতিহ্যবাহী খাটলাকে আধুনিক নকশায় নতুনভাবে শহুরে জীবনে পৌঁছে দেওয়া।

ব্যবসা শুরু করা সহজ নয়। পুঁজির প্রয়োজন তো আছেই। অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে জমিয়ে রাখা মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়েই শুরু হয় শ্যামল-সাবিহার 'সুন্দর' অভিযান।

'খুঁত'ই যার সৌন্দর্য!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েছে 'সুন্দর'-এর কারখানা। সেখানে কাজ করেন স্থানীয় দক্ষ কারিগররা। কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, বুননকার, এমনকি প্যাকেজিংয়ের জন্যও আলাদা দল আছে। সবাই এই অঞ্চলের মানুষ—যাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ এখন শহরের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে গ্রামের গন্ধমাখা আসবাব।

খাটলার অনেক গালভরা নাম আছে—কেউ বলে খাটলা, কেউ বলে মাচিয়া, আবার কেউ বলে চারপাই। তবে এগুলোর মধ্যে পার্থক্যও আছে। শ্যামল বিশ্বাস বলেন, "খাটলা আর মাচিয়ার মধ্যে একটু তফাত আছে। খাটলা বড়, যেখানে বসা বা শোয়া যায়। আর মাচিয়া হলো ছোট সংস্করণ—'মাচা' বা 'মাইচা' শব্দ থেকেই এসেছে নামটা।"

কাজ চলছে।

খাটলার ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। প্রাচীন মিশর ও রোম সভ্যতায় দড়ির খাট ছিল মানুষের জীবনের অংশ। ইউরোপের মধ্যযুগ ও রেনেসাঁ যুগে রশির খাট ঘরে ঘরে ব্যবহৃত হতো, আর উপনিবেশিক আমেরিকাতেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত হাতে তৈরি এই খাটগুলো ছিল টেকসই ও সাশ্রয়ী—তাই সাধারণ মানুষের ঘরে এটি ছিল অপরিহার্য আসবাব।

'সুন্দর'-এর স্বত্বাধিকারী শ্যামল বিশ্বাস বলেন, "খাটলা একটা ঐতিহ্যবাহী আসবাব, বিষয়টা এমন না যে আমরাই এনেছি। আমাদের নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ও দড়ির খাট ব্যবহার করতেন।"

শ্যামলের মতে, শহুরে মানুষ আজ খাটলার প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হচ্ছে এক মানবিক টান থেকেই। তার ভাষায়, "আমরা আধুনিকতার ভেতর দিয়ে যত এগিয়েছি, ততই প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গেছি। কিন্তু এখন বিশ্বজুড়ে একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার। শহরে বসে মানুষ প্রাকৃতিক কোনো কিছুর স্পর্শ পেতে চায়। খাটলার মধ্যে সেই স্বাভাবিক, হাতের ছোঁয়ার সৌন্দর্য আছে। কাঠে সামান্য বাঁক, খুঁত বা দড়িতে উনিশ-বিশ—এই অসম্পূর্ণতাই আসলে এর সৌন্দর্য। এখানেই মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে একধরনের সংযোগ খুঁজে পায়।"

চলছে খাটলার কাজ।

যেভাবে তৈরি হয় খাটলা

খাটলা তৈরিতে সময় লাগে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন। পুরো প্রক্রিয়াই হাতে তৈরি—কাঠ কাটা থেকে শুরু করে বার্নিশ, দড়ি জোড়া ও বুনন—সবই কারিগরের হাতেই সম্পন্ন হয়। 

শ্যামল বিশ্বাস বলেন, "আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই কাঠের গুণমান ও ফিনিশিংয়ে। যেহেতু আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক শহুরে, তাই তাদের বসার ঘরের সঙ্গে মানানসই করে খাটলা তৈরি করি।"

সব কাঠ দিয়ে খাটলা বানানো যায় না। টেকসই করার জন্য 'সুন্দর' খাটলা বানায় বাবলা কাঠ দিয়ে। শ্যামল বলেন, "এই কাঠটা খুবই শক্ত এবং টেকসই, দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এমনকি গরুর গাড়ির চাকা তৈরিতেও এই কাঠ ব্যবহার হয়। এর আরেকটি সৌন্দর্য হলো—কাঠের ফাইবার স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা খাটলার গায়ে এক অনন্য নকশা তৈরি করে।"

তিনি আরও বলেন, "অনেক ক্রেতা মেহগনি কাঠ চান, কারণ এর একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে বাজারে। চাইলে আমরা সেটাও দিই, তবে মেহগনির চেয়ে বাবলা কাঠ আসলে বেশি দামি ও শক্ত। তাই আমাদের প্রথম পছন্দ বাবলাই।"

কাঠ কাটার পর প্রতিটি অংশ যত্নের সঙ্গে ঘষে মসৃণ করা হয়। রন্দা ও ঘষার কাগজ হাতে নিয়ে কারিগররা প্রতিটি পাটায় হাত বুলিয়ে নিশ্চিত করেন যেন কোথাও খোঁচা বা কাঁটা না থাকে। এরপর শুরু হয় কাঠামো তৈরির কাজ। প্রথমে বানানো হয় একটি মজবুত ফ্রেম, যা খাটলার গোড়ার প্রাণ। চারটি পা সমান উচ্চতায় কেটে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসানো হয় দণ্ডগুলো। প্রতিটি আঘাতে মিশে থাকে নিখুঁত মাপজোখ ও কারিগরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলে সেটি কিছুক্ষণ রোদে শুকানো হয়, যাতে কাঠ আরও শক্ত হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আসনের বুনন। এখানেই খাটলার প্রাণ লুকিয়ে থাকে। কারিগররা ব্যবহার করেন সুতি দড়ি, প্লাস্টিক ফাইবার বা নাইলনের মোটা দড়ি—যা টেকসই ও ঝকঝকে। প্রথমে আড়াআড়ি, তারপর লম্বালম্বি দড়ি টেনে বোনা হয়।

সবশেষে আসে ফিনিশিং। কাঠামো ও বুনন সম্পন্ন হলে খাটলাটি আবার ঘষে পরিষ্কার করা হয়। অনেক কারিগর কাঠে হালকা বার্নিশ দেন, কেউ আবার মেহগনি বা বাদামি আভায় রঙ করেন। এতে খাটলা শুধু টেকসই হয় না, বরং দেখতেও হয়ে ওঠে ঝকঝকে ও মনোরম।

স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নে শ্যামল বলেন, "আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক খাটলা আছে, যেগুলো পনেরো থেকে ত্রিশ বছর ধরে ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো পুরোপুরি হাতে তৈরি এবং কাঠের গুণমান এত ভালো যে সময়ের পরীক্ষায়ও টিকে থাকে। আমরা তো এখনো নতুন, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস—'সুন্দর'-এর তৈরি খাটলাগুলোর জীবনকালও হবে দীর্ঘ।"

গ্রাহক চায় কাস্টমাইজেশন

শুরুর দিকে শ্যামলের পরিকল্পনা ছিল, তারা কেবল মধ্যস্থতার কাজ করবে—অর্থাৎ কেউ খাটলা কিনতে চাইলে 'সুন্দর'-এর মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সরাসরি পৌঁছে যাবে শহরের ড্রয়িংরুমে। কিন্তু এখানেই দেখা দেয় সমস্যা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারিগরেরা দীর্ঘদিন ধরে একই মাপ ও উচ্চতায় খাটলা বানিয়ে আসছেন, অথচ শহুরে ক্রেতাদের চাহিদা একেবারেই আলাদা।

শ্যামল বলেন, "আমরা চেয়েছিলাম গ্রাহকের পছন্দ মতো খাটলার উচ্চতা বাড়াতে বা কমাতে, কিছু অংশ আলাদাভাবে সাজাতে। কিন্তু মিস্ত্রিরা রাজি হচ্ছিল না। কারণ তাদের কাজ চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই পদ্ধতিতে—যেমন আগে তাদের বাবা বানাতেন, এখন তারা বানান, ভবিষ্যতে তাদের ছেলেরাও বানাবেন। সামান্য পরিবর্তন মানেই তাদের জন্য ঝামেলা।"

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শ্যামল তার এক বন্ধু ও ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনভাবে গড়ে তোলেন। তারা সরাসরি কারিগরদের নিয়োগ দেন—কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, বুননকার—সবাইকে নিয়ে একটি সমন্বিত দল তৈরি করেন। এরপর শুরু হয় 'সুন্দর'-এর নিজস্ব ডিজাইন প্রক্রিয়া, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কাঠের খাটলাকে আধুনিক নকশার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রূপ দেওয়া হয়।

শ্যামল বলেন, "আমাদের ক্রেতারা এখন নিজের মতো করে খাটলা বানাতে চান। প্রতিটি জিনিসে যেন তাদের ব্যক্তিগত ছোঁয়া থাকে—এই চাহিদাটাই আমাদের কাজের মূল চালিকা শক্তি।" তাই 'সুন্দর'-এর বড় একটি অংশ এখন কোলাবরেটিভ কাজের—অর্থাৎ গ্রাহক ও 'সুন্দর'-এর পারস্পরিক সহযোগিতায় তৈরি হয় প্রতিটি খাটলা।

এ প্রসঙ্গে ক্রেতা তাসনীম সাইকী বলেন, "ঘর সাজানোর জন্য দেশীয় পণ্য খুঁজছিলাম, তখনই 'সুন্দর' আমার সামনে আসে। এখানকার প্রতিটি পণ্যই দারুণ। আমি আমার পছন্দমতো মাপে একটি খাটলা কাস্টমাইজ করে নিয়েছি। দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি খাটলাগুলো এখন আমার ভীষণ পছন্দের। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই খাটলার সঙ্গেই।"

গ্রাহকের এই কাস্টমাইজেশনের প্রবণতার কারণে 'সুন্দর'-এর ভান্ডারে এখন আছে ৮০টিরও বেশি নকশা। মাচিয়া বা মোড়া আকৃতির খাটলার দাম শুরু ৩ হাজার টাকা থেকে, বড় খাটলার দাম ৮ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে কিছু ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। দাম নির্ভর করে ব্যবহৃত কাঠ ও বুননের মানের ওপর। 'সুন্দর'-এর সংগ্রহে রয়েছে হ্যান্ডপেইন্টেড খাটলাও, যা একেবারে নিজস্ব ও একক সৌন্দর্যের প্রকাশ।

সুন্দর থাকতে চায় দেশীয় ডিজাইন নিয়েই

২০২৪ সালে শুরু হওয়া 'সুন্দর'-এর গ্রাহক অভিজ্ঞতাও বেশ ইতিবাচক। খাটলা ও মাচিয়ার পাশাপাশি তারা এখন তৈরি করছে চেয়ার, শু র‍্যাক, দোলনা ও সোফাও। তবে ঐতিহ্যবাহী পণ্য হওয়ায় বেশিরভাগ গ্রাহকের আবদার খাটলাকেই ঘিরে। প্রতি মাসে তারা ৫০ থেকে ৬০টি খাটলা তৈরি করে পৌঁছে দেন ক্রেতার হাতে। বর্তমানে 'সুন্দর'-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন ২০ জন সদস্য, যারা দিনরাত পরিশ্রম করে এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়।

গ্রাহক আদনান নাদীভ অয়ন বলেন, "হাতের কাজ মানেই নিখুঁত হবে না—আর এই খুঁতটাকেই শিল্পে রূপ দেওয়াটাই 'সুন্দর'-এর সৌন্দর্য। ফিনিশিং, বার্নিশ, বুনন—সবই অসাধারণ। এরকম পণ্য যদি দেশের বাইরে রপ্তানি হয়, তাহলে দেশের সুনাম বাড়বে।"

রপ্তানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্যামল বিশ্বাস জানান, এখনো সরাসরি রপ্তানি শুরু না হলেও তারা সে পরিকল্পনা করছেন। দেশের ভেতরে অর্ডার করলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেই পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয় গ্রাহকের ঠিকানায়। কেউ চাইলে 'সুন্দর'-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় যোগাযোগ করেই অর্ডার করতে পারেন।

সুন্দর-এর তৈরি সোফা।

খাটলাকে তিনি দেখেন একপ্রকার হারিয়ে যাওয়া শিল্প হিসেবে। শ্যামল বলেন, "বংশপরম্পরায় খাটলা তৈরির যে রীতি ছিল, তা অনেকটাই কমে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আগে যত জায়গায় খাটলা বিক্রি হতো, যতজন বানানো বা বুনন শিখত—এখন তার সংখ্যা অনেক কম। আমার দাদু খাটলা বানাতে পারতেন, বাবা পারতেন, আমি পারি না। তাই আমরা এটাকে পুনর্জীবিত করার চেষ্টা করছি।"

তবে এই পুনরুত্থানের গল্পে স্থান পাচ্ছে কেবল দেশীয় নকশা। শ্যামলের ভাষায়, "বাংলাদেশের আসবাবের জগতে এখনো ইউরোপীয় ডিজাইনই প্রাধান্য পাচ্ছে। কিন্তু আমার স্বপ্ন 'সুন্দর'-কে এমন এক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর নান্দনিকতার মেলবন্ধন।"


ছবি: 'সুন্দর'-এর সৌজন্যে
 

Related Topics

টপ নিউজ

খাটলা / দড়ির খাটলা / আসবাবপত্র / ঘরসজ্জা / ঐতিহ্যবাহী পণ্য / চাঁপাইনবাবগঞ্জ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • হরমুজ। ছবি: এপি
    ইউয়ানে দাম মেটানো হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন করতে দিতে পারে ইরান
  • বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
    বিশ্বাস করেন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খালি তদবির: মির্জা ফখরুল
  • ছবি: সংগৃহীত
    ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে ঢাবি-র একক আধিপত্য, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের আক্ষেপ
  • ছবি: সংগৃহীত
    রাজধানীর এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
  • ছবি: রয়টার্স
    যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প এখনো জয়ী হতে পারেননি
  • ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর টোকিওর ইয়োকোহামা বন্দরে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ। ছবি: রয়টার্স
    ১২ দিনে জ্বালানি নিয়ে এসেছে ১৬টি জাহাজ, আরও তিনটি আসছে

Related News

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে নিহত ২, আহত ৩
  • বিবিএস জরিপ: সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়ায় শীর্ষে নোয়াখালী, সর্বনিম্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • কয়েক হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত নেতার শোভাযাত্রা
  • ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প
  • কক্সবাজারের নতুন ডিসি আ. মান্নান

Most Read

1
হরমুজ। ছবি: এপি
আন্তর্জাতিক

ইউয়ানে দাম মেটানো হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন করতে দিতে পারে ইরান

2
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ

বিশ্বাস করেন সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খালি তদবির: মির্জা ফখরুল

3
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে ঢাবি-র একক আধিপত্য, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের আক্ষেপ

4
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

রাজধানীর এভারকেয়ারে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

5
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যে ৭ কারণে ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প এখনো জয়ী হতে পারেননি

6
২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর টোকিওর ইয়োকোহামা বন্দরে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ। ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশ

১২ দিনে জ্বালানি নিয়ে এসেছে ১৬টি জাহাজ, আরও তিনটি আসছে

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab