৩ বছর বড় পর্দায় নেই, তবুও ১৭০০ কোটি রুপির ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে ভারতের সবচেয়ে দামি তারকা শাহরুখ
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'ক্রোল'-এর বার্ষিক 'সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট-২০২৫' প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ভারতের সবচেয়ে দামি তারকাদের তালিকায় দেখা গেছে বড় রদবদল। গত বছরের শীর্ষস্থানে থাকা ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে হটিয়ে সিংহাসন দখল করেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান।
২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুসারে, ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,৭০০ কোটি রুপি) ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছেন সুপারস্টার শাহরুখ খান। ২০২৪ সালের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা এই অভিনেতা 'ডানকি' (২০২৩) মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে কোনো নতুন সিনেমা না থাকা সত্ত্বেও শীর্ষস্থান দখল করলেন।
তবে শাহরুখের ব্র্যান্ড ভ্যালু তার সিনেমা মুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। গত তিন দশকে তিনি বিশ্বজুড়ে নিজেকে অন্যতম পরিচিত ভারতীয় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ বছরের ডিসেম্বরে চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের 'কিং' সিনেমা মুক্তির মধ্য দিয়ে শাহরুখ তার বিরতি শেষ করবেন।
অন্যদিকে 'ধুরন্ধর' সিনেমার সাফল্যের ওপর ভর করে কোহলিকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছেন রণবীর সিং। ক্রোল-এর হিসাবে তার ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৬২.৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,৫৫০ কোটি রুপি)।
অপরদিকে, গত বছরের শীর্ষে থাকা ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ভিরাট কোহলি এবার নেমে গেছেন তিন নম্বরে। তার ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরা হয়েছে ১৫৮.৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,৫০০ কোটি রুপি)।
২০২৫ সালের পর থেকে রণবীর তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজির দুটি সিনেমার, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩,১০০ কোটি রূপির ব্যবসা করেছে।
তালিকায় চার ও পাঁচ নম্বরে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের দুই কিংবদন্তি এমএস ধোনি এবং শচীন টেন্ডুলকার। অন্যদিকে, ৯৩.২ মিলিয়ন ডলার ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে নারী তারকাদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে (তালিকাল ৬ নম্বরে) রয়েছেন আলিয়া ভাট।
তিনি তার স্বামী রণবীর কাপুরকেও (৮০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে ১০ম স্থান) পেছনে ফেলেছেন। তালিকার শীর্ষ ১০-এর বাকি স্থানগুলো পূরণ করেছেন দীপিকা পাডুকন, হৃতিক রোশন এবং অমিতাভ বচ্চন।
ক্রোল-এর 'সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ২০২৫' অনুযায়ী, ভারতের শীর্ষ ২৫ জন তারকার মোট ব্র্যান্ড মূল্য ২ বিলিয়ন ডলার (১৯,০০০ কোটি রুপিরও বেশি), যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, মূল তালিকায় ১৩ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী স্থান পেয়েছেন। তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারমূলক পোর্টফোলিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিতি বিবেচনা করে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
