পূজায় ডি এল রায়ের গান
দুর্গাপূজা উপলক্ষে জি সিরিজ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে সংগীতশিল্পী সঞ্চিতা রাখির গাওয়া দ্রিজেন্দ্রলাল রায়ের (ডি এল রায়) 'একবার গাল ভরা মা ডাকে' গানটি। গত ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিনে গানটি জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।
সঞ্চিতা রাখির কণ্ঠে ডি এল রায়ের জনপ্রিয় এ গানের সংগীতায়োজনে ছিলেন চন্দন ঘোষ। আর চিত্রায়ণে ছিলেন জাকির হোসেন রাজু।
সঞ্চিতা রাখি জানান, দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির পঞ্চকবির একজন হিসেবে ডি এল রায়ের জনপ্রিয় এই গান বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে মা বলে সম্বোধন করেন। গানটিতে সেই মায়ের বন্দনা করা হয়েছে।
সঞ্চিতা রাখি মূলত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী। পঞ্চকবির গানের প্রতিও রয়েছে তার অনুরাগ।
জি সিরিজ থেকে গানটি প্রকাশের পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সঞ্চিতা রাখি এটিএন বাংলা, বাংলাভিশন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর, যমুনা টেলিভিশনসহ একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে গান করেছেন। এছাড়া রাজধানীতে পূজা উদযাপন কমিটির সংগীতায়োজনেও তিনি সরাসরি গান পরিবেশন করবেন।
সঞ্চিতা রাখির সংগীতে পথচলা পারিবারিক আবহে শৈশব থেকে। নওগাঁয় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর বাবা রনজিৎ পাল ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাবার আগ্রহ ও অনুপ্রেরণায় গানে হাতেখড়ি তার। গানের প্রতি ভালোবাসা ও আকর্ষণ থেকে স্কুল–কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে। সেখান থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
এরপর সঞ্চিতা রাখি ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে সংগীতের সঙ্গেই শুরু হয় তার পেশাগত জীবন। ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনে যুক্ত হন গানের শিক্ষক হিসেবে। বর্তমানে তিনি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানিডেল স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সংগীত চর্চায় যুক্ত রয়েছেন।
রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে সঞ্চিতা রাখি সরকারি–বেসরকারি রেডিও–টেলিভিশন ও মঞ্চে নিয়মিত বিভিন্ন সংগীত আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রোতাদের কাছে নিয়মিত থাকতে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকে নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীতসহ পঞ্চকবির গান নতুনরূপে চিত্রায়িত করে প্রকাশ করছেন তিনি।
সঞ্চিতা রাখি জানান, এ পর্যন্ত তার ইউটিউব চ্যানেল অর্ধশতাধিক গান প্রকাশ করা হয়েছে। এসব গানের চিত্রায়ণ করা হয়েছে দেশে–বিদেশে। ইউটিউবে গান প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন টেলিভিশনের আয়োজনেও গান পরিবেশন করেন।
তিনি বলেন, সংগীতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক যে শিক্ষা পেয়েছেন, গানের মাধ্যমে তার রেশ ছড়িয়ে দিতে চান শ্রোতাদের মাঝে। রবীন্দ্রসংগীতকে কেন্দ্র করে তিনি তার ভবিষ্যৎ সংগীত জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান।
