গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবির রায় স্থগিত
পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকা কর প্রদেয় দাবির বৈধতা নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
একইসঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের দুটি লিভ টু আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই আদেশের ফলে আপাতত গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হচ্ছে না।
গ্রামীণ কল্যাণের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। টিবিএসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।
এর আগে সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দুটি দায়ের করা হয়েছিল।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর এক রায়ে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। ১২ অক্টোবর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, এটি আবেদনকারীর কর ফাঁকি দেওয়ার একটি ধ্রুপদি উদাহরণ। আবেদনকারী একটি নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় দীর্ঘায়িত করে কর ফাঁকির চেষ্টা করছে এবং প্রতিপক্ষকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি।
রায়ে বলা হয়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি টাকার কর চ্যালেঞ্জ করলেও ২০১৭-২০১৯ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণ একই ধরনের আয়কর দিয়েছিল। পরে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা রেফারেন্স প্রত্যাহার করে নেয় তারা।
এর প্রেক্ষিতে আদালত মন্তব্য করেন, আবেদনকারী নিজস্ব অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে আদালতের আদেশের প্রতি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে— যা প্রকারান্তরে আদালতের আদেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনেরই শামিল।
