ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজারের দাবিতে উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বকেয়া ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বেলা দেড়টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা।
এর আগে, বেলা সোয়া ১টার দিকে উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মু. আল আমিন সরকার টিবিএসকে জানান, 'শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিমানবন্দর গোলচত্বর এলাকায় অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।'
এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা আজমপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা একত্র হয়ে সড়ক অবরোধ করায় মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়কেও।
দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, বিমানবন্দর সড়ক, বিআরটি লেন ও উত্তরার ভেতরের সেক্টর সড়কগুলোতে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস আটকে থাকায় অনেকেই হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এমনকি তীব্র যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, 'সকালে কয়েকশো' শ্রমিক বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের হস্তক্ষেপে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে তারা সড়ক ছেড়ে যান। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।'
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুবেল হক জানান, শ্রমিকেরা সড়কে নামার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্ত করা হয় এবং ধাপে ধাপে রাস্তা খালি করে যানবাহন চলাচল শুরু করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উত্তরার আজমপুর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন দক্ষিণখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিকের বিক্ষোভে মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ওই দিন উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কে এইচ এম এরশাদ গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যান।
