আদাবরে ময়লার ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত বিএনপি নেতা
রাজধানীর আদাবরে ময়লার ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন মো. বশির (৪৭) নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতা। তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আদাবরের ১০ নং রোডে তিনি হামলার শিকার হন। আহত বশির আদাবর ২৯ নং ওয়ার্ডের ১ নম্বর ইউনিটের সভাপতি। পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী।
বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বশিরের মাথায় ৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মো. ছিফাত উল্লাহ হৃদয়।
তিনি টিবিএসকে বলেন, 'স্থানীয় বাসা বাড়িতে ময়লা নেয়ার ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দে মোহাম্মদদপুরের শীর্ষ চাঁদাবাজ পাপ্পুর কথিত শ্যালক ইমন মুন্সির লোকজন তার বাবার ওপর এই হামলা করেছে।'
তিনি আরো জানান, ইমন মুন্সী ও তার লোকজন আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে বাসা বাড়ি থেকে অতিরিক্ত ময়লার বিল নেয়। তাই তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের এই কাজ দেয়ার জন্য ভবন মালিকরা আমার বাবাকে দায়িত্ব দেয়। এ নিয়ে আমার বাবার সঙ্গে তাদের দ্বন্দ। আমরা কয়েকদিন আগে এটা নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছি। তার জেরেই গতকাল আমার বাবাকে কোপানো হয়।
এদিকে এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মো. বশির দৌঁড়ে একটি ভবনের বেজমেন্টে ঢুকছে। তার পেছন পেছন আরো চার ব্যক্তি ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করছে। তাদের একজনের হাতে চাপাতি ও একজনের হাতে রড ছিল।
এই ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা করেন আহত বশির। মামলায় ইমন মুন্সীসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৭-৮ জনকে। মামলার বাকি আসামিরা হলেন—মো. রোমন, ইমরান, মো. সাগর, মো. বাদল, মো. সজল, মো. অহিদুল ইসলাম ও মো. হযরত।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় মনির ও রাব্বি নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। তবে মামলায় তাদের নাম উল্লেখ নেই।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। তিনি টিবিএসকে বলেন, 'ময়লার ব্যবসার দ্বন্দে বিএনপির ওই নেতার ওপর হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেছেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।'
