বাইকের ধাক্কা নিয়ে বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি
সড়কে চলার সময় বাইকের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টর'দা সূর্যসেন হল ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাইক চালানো অবস্থায় জহুরুল হক হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভের বাইকের সাথে সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম তারেকের ধাক্কা লাগে। এসময় কথা কাটাকাটির জেরে তারেককে চড়–থাপ্পড় মারেন সৌরভ।
পররদিন বুধবার ভিসি চত্বর থেকে সৌরভের বাইকের চাবিসহ আটকে রেখে দেয় তারেক ও সূর্যসেন হলের একদল শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন আরিফুল ইসলাম তারেক। এসময় মীমাংসার জন্য সিনিয়রদের মধ্যস্থতায় বুধবার রাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মল চত্বরে দুই পক্ষ আসে। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে সূর্য সেন হল থেকে আনুমানিক ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় দু'পক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারেকের সঙ্গে থাকা সূর্যসেন হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভকে মারধর করে। এসময় সৌরভকে মারধর থেকে বাঁচাতে গেলে আরও দুজন আহত হয়।
ঘটনা মীমাংসায় মধ্যস্ততার জন্য উপস্থিত থাকা জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার লিয়ন দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আমরা শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম, সৌরভ ভাই ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু হলের সামনে আসা মাত্রই তারেকের সাথে থাকা ছেলেগুলো উস্কানিমূলক গালিগালাজ শুরু করে এবং হঠাৎ করেই সৌরভ ভাইয়কে মারধর করতে থাকে। আমরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মারধর ঠেকানোর চেষ্টা করি। কিন্তু মার ঠেকাতে গেলে আমি পড়ে গিয়ে ব্যথা পাই। এসময় মার ঠেকাতে গিয়ে শাহরিয়ার শিথিল (জহুরুল হক ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য) ভাইও আঘাত পায়।'
এদিকে বাইক আটকে রাখা ও মারধরের বিষয়ে জানতে সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আরিফুল ইসলাম তারেককে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
