রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মব: আরও দুজন গ্রেপ্তার, ভাঙা হলো ভিসির কক্ষের তালা
'মব' করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
বুধবার দিবাগত রাতে নগরীর বহরমপুর এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রাজপাড়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—বহরমপুর এলাকার আলী আকবর হোসাইন ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলাল। প্রাথমিকভাবে তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে 'রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা' নামের একটি দল মিছিল নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। তারা জোর করে উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে তাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরেরও অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসাইন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার একদিন পর বুধবার ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক। তবে ক্যাম্পাসে এলেও তিনি নিজের কক্ষে প্রবেশ করেননি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উপাচার্যের কক্ষের তালা ভাঙা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা তালা ভাঙেন।
তালা ভাঙার পর পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষে প্রবেশ করে খোয়া যাওয়া মালামালের তালিকা করেন। এ সময় মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভালো। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রম আগে থেকেই চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা তালা ভেঙেছেন। তারা সেখানে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে, সে বিষয়টি দেখেছেন।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন জানান, মহানগর যুবদল, ছাত্রদল, রাজশাহী মেডিকেল ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপাচার্যের উপশহরের বাসায় গিয়ে সেখান থেকে তাকে গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তাকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল ও উলামা দলের নেতারাও অস্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতারা উপাচার্যের বাসায় যান। তাদের কয়েকজন হলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ।
শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া ওই অপ্রীতিকর ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা উপাচার্যকে বাসা থেকে নিয়ে তার কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।
