নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসা থেকে ধরে নিয়ে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।
সিজানের বাবা ইন্নু মিয়ার অভিযোগ, স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাউছার সম্প্রতি এলাকায় একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন। এই সংগঠনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কাউছারের নির্দেশে তার সংগঠনের লোকজন সিজানকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মাসদাইর মোড়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরে সিজান অচেতন হয়ে পড়লে তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। তারা জানান, সিজান এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা এবং চিহ্নিত ছিনতাইকারী ছিলেন। নিজের গ্যাং নিয়ে তিনি এলাকায় প্রায়ই ত্রাস সৃষ্টি করতেন। কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রব থেকে বাঁচতে মসজিদের মুসল্লিরা 'আল ফালাহ' নামে একটি সামাজিক সংগঠন তৈরি করেন। শনিবার রাতে সিজানকে ধরে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু তার আগেই উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাউছার বলেন, 'সিজানের নামে ছিনতাইসহ অনেক অভিযোগ আছে। তাকে বাসা থেকে আনা হয়েছিল পুলিশের হাতে সোপর্দ করার জন্য। কিন্তু তার আগেই স্থানীয় লোকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। যারা মারধর করেছে তারা আমাদের সামাজিক সংগঠনের কেউ না। এলাকায় নিয়মিত ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারের ফলে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।'
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, 'নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সিজানের শরীরে মারধরের একাধিক আঘাতের দাগ রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।'
