ক্যান্সার চিকিৎসা সম্প্রসারণে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন কিনবে সরকার
ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণে চলতি অর্থবছরের মধ্যে দেশে ১৭টি লিনিয়ার এক্সিলারেটর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসঙ্গে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবলায়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ক্যান্সারের রেডিওথেরাপি দিতে ছয় মাস, সাত মাস সময় অপেক্ষা করতে হবে—এটা খুবই কষ্টের বিষয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটা দেখে অনেক সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। আমাদের দেশের গরিব মানুষকে কীভাবে সাহায্য করা যায়, সেটা ভাবতে হয়।'
মন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার তিনটি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি ক্যান্সার হাসপাতালে এবং আরেকটি সাভারে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আরও একটি মেশিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে পরিচালনার ব্যবস্থা করেছে।'
নতুন পরিকল্পনার আওতায় দেশে আরও ১৭টি লিনিয়ার এক্সিলারেটর স্থাপন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, '৬টি মেশিন ঢাকায় দেয়া হবে বাকিগুলো ঢাকার বাইরে। ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এ মেশিনগুলো স্থাপন করা হবে।'
মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা আছেন, আমাদের ম্যানপাওয়ার আছে। যেখানে নার্স ও অন্যান্য জনবল দরকার, সেগুলোও আমরা দেব।'
তিনি আরও বলেন, 'আগের সরকারের সময়ে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় সেগুলো কার্যকরভাবে চালু করা যায়নি।'
এদিকে জটিল অস্ত্রোপচারে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে সরকার প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'রোবটিক সার্জারির জন্য সরকারের কাছে ১০টি মেশিনের চাহিদা রয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা ইনিশিয়ালি পাঁচটি রোবটিক সার্জারিতে যাব। এটার ডিপিপি করছি। এই অর্থবছরের মধ্যে আমরা এগুলো কেনার ইচ্ছা রাখি।'
দেশের প্রধান হাসপাতালগুলোতে এসব মেশিন স্থাপন করে রোবটিক সার্জারি চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, 'দেশে ইতোমধ্যে লিভার ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনে চিকিৎসকরা ভালো সাফল্য দেখাচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে জটিল অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা আরও বাড়বে।'
মন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দু'টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন।
