অবৈধভাবে আমদানি করা সুতা জব্দ: প্রকৃত আমদানিকারক শনাক্ত করে ব্যবস্থা চায় বিটিএমএ
নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অবৈধভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ সুতা জব্দ করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। শনিবার (৩ অক্টোবর) এসব সুতা জব্দ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও নরসিংদীর মাধবদীর কয়েকটি গুদাম থেকে এসব সুতা জব্দ করা হয়।
শুল্কমুক্ত বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় আমদানি করা উচ্চমূল্যের ৮০ কাউন্টের এসব সুতা জব্দের ঘটনায় দেশের প্রধান বস্ত্রশিল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিটিএমএর পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি কার্টন উচ্চমূল্যের সুতা জব্দ করা হয়েছে। এসব সুতা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে জব্দ অভিযানে থাকা এক ভ্যাট কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, চূড়ান্ত গণনা শেষ হলে সঠিক পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে।
বিটিএমএ দাবি করেছে, প্রকৃত আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বিপুল পরিমাণ সুতা পরিবহন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠায়, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহারের এটি একটি দৃশ্যমান উদাহরণ বলেও সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
বিটিএমএর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজে গুদামে বিপুল পরিমাণ সুতা মজুত থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের কথোপকথনও দেখা গেছে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার মূল উদ্দেশ্য হলো রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্ক ও কর ছাড়ে আমদানির সুযোগ দেওয়া।
তবে এই সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত ব্যবহার ও অনুমোদিত রপ্তানিমুখী উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাইরে স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি একই পণ্য উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
বিটিএমএর অভিযোগ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় বন্ডেড সুবিধার আওতায় আমদানি করা সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল অননুমোদিতভাবে মজুত বা বাজারজাত করার ঘটনা ঘটছে।
সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'আরও শক্তিশালী তদন্ত, নজরদারি এবং গুদাম পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করলে এ ধরনের অনিয়ম সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।'
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, 'নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জব্দ হওয়া সুতা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হলে, প্রকৃত আমদানিকারক, সরবরাহকারী এবং বন্ডেড সুবিধার আওতায় পণ্যগুলো যেভাবে খালাস ও পরিবহন করা হয়েছে, সেই পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।'
