ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার, ৫ দিনের রিমান্ডে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রাতে আসামিকে আদালতে হাজির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) এ বি এম. আবদুল্লাহ খালেদ সাকিব।
আসামিপক্ষে আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল ও জামিনে শুনানিতে বলেন, 'মিডিয়ায় এসেছে যে তাকে সাত দিন ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল। কী অভিযোগে তাকে সাত দিন ডিবি কার্যালয়ে রাখা হলো? কোন আইনে তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অতিরঞ্জিতভাবে অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এরও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করবে যে, আমাদের একজন ওসির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বরং মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনস্ট, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সরকারের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাহিনী সম্পর্কে অবজ্ঞা, বিদ্বেষ, ঘৃণা পোষণ করে জনমনে বিদ্বেশসহ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করে।
মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামি শনাক্তসহ গ্রেপ্তার লক্ষ্যে আসামিকে সাত দিন পুলিশ হেফজতে (রিমান্ড) এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন রাকিবুল।
অডিওতে রাকিবুল সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলতে শোনা যায়।
অডিওতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, 'শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসলে কিছু হবে না' এবং 'পুলিশ তাকে ঠেকাতে পারবে না।'
গত ১৭ সেপ্টেম্বর অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
আদেশে তার প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে 'প্রশাসনিক কারণ' উল্লেখ করা হয়েছিল। তখন পুলিশের একাধিক সূত্র অডিওর কণ্ঠ রাকিবুলের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল।
তবে রাকিবুল নিজে ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর রাতেই রাকিবুলকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডিএমপি ওই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নতুন ওসি নিয়োগ দেয় ডিএমপি। পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি করা হয়।
