কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, কার কত টাকার সম্পত্তি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ 'জুলাই ফাউন্ডেশন' বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত দেন। উল্লেখ্য, শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ না নেওয়াতে তার হলফনামাও নেই। ফলে তার সম্পত্তির হিসাবও পাওয়া যায়নি।
এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য এক মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। সে সময়ও ট্রাইব্যুনাল তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
হলফনামা অনুসারে কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের ঘোষিত সম্পদ:
ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদেরের হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্রে ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, দেড় লাখ টাকা মূল্যের ২৫ তোলা সোনা, ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে ঢাকার উত্তরায় ৫১ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কাঠার একটি জমি দেখানো হয়েছে। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের মোট ঘোষিত সম্পত্তি ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদ
ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের হলফনামা অনুসারে, তার নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংকে ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্রে ছিল ৬০ লাখ টাকা। ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি, সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের ২৫ ভরি সোনা এবং সোয়া ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র মিলিয়ে তার মোট অস্থাবর সম্পত্তি ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকার।
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পদ হিসেবে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে; যার ঘোষিত মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি ঢাকার উত্তরায় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের একটি ভবন এবং মিরপুরে ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তাঁর মোট স্থাবর সম্পদের মূল্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সম্পদ
ঢাকা-১৭ আসন থেকে অংশ নিয়ে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হওয়া মোহাম্মদ আলী আরাফাতের নামে ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যা তার একমাত্র ঘোষিত স্থাবর সম্পদ।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার বড় বিনিয়োগ শেয়ারবাজারে। ৯টি কোম্পানিতে তার প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। এছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ তার নিজের নামে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পদ
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামা অনুযায়ী, তার ৬.৫ একর কৃষিজমির মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ৫৭.৫০ শতাংশ অন্য কৃষিজমির মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ৩ কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য ৪ লাখ৭১ হাজার ৬০০ টাকা এবং বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট খাতে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পত্তি দেখানো হয়েছে। তার মোট ঘোষিত স্থাবর সম্পদ প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নিখিলের নগদ টাকা রয়েছে ২৪ লাখের কিছু বেশি। ব্যাংকে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআর, নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ ও নাবিল প্যাকেজিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি যানবাহন এবং ২ লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীসহ তার সর্বমোট সাড়ে ৫ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
