সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬ বিল পাস, ৩৫ সংসদীয় কমিটি গঠন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য দেওয়া ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে উত্তর দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৭৮টির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব তথ্য জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, তৃতীয় অধিবেশনে মোট নয়টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে ছয়টি বিল উপস্থাপিত হয় এবং সবগুলোই পাস হয়েছে। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এছাড়া একটি বিশেষ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ দিয়েছেন। ৬৮ বিধিতে সাতটি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি গৃহীত ও আলোচিত হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গৃহীত হয় এবং এর মধ্যে ১৪টির ওপর আলোচনা হয়েছে।
৭১ক বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। ১৪৭ বিধিতে দুটি নোটিশের মধ্যে একটির ওপর আলোচনা হয়েছে এবং ৩০২ বিধিতে একটি নোটিশ উত্থাপিত হয়েছে।
স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সংসদ সদস্যরা মোট ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার বলেন, মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে ভিন্নমত প্রকাশের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সংসদীয় রীতি ও কার্যপ্রণালির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
১৭ বছর পর নির্বাচিত সংসদ
স্পিকার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সংসদ দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি ছিল সংক্ষিপ্ত।
অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার।
এছাড়া ডেপুটি স্পিকার, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অধিবেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন স্পিকার। জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পরে দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার।
