১১০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের দাবি, এফএসআরইউ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চায় সামিট
এলএনজি আমদানির জন্য দেশের তৃতীয় ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনে করা চুক্তি বাতিলের অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল-২ কোম্পানি লিমিটেড।
কোম্পানিটির দাবি, চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত এফএসআরইউ প্রকল্পের পরিবর্তে বিদ্যমান চুক্তি বহাল রাখা হলে বাংলাদেশের প্রায় ১১০ কোটি ডলার (১.১০ বিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় হতে পারে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানকে লেখা এক চিঠিতে সামিট বলেছে, ২০২৪ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত চুক্তি বহাল থাকলে ১৫ বছর পরিচালনার পর এফএসআরইউ, মুরিং সিস্টেম ও সমুদ্রতলস্থ পাইপলাইন কোনো খরচ ছাড়াই পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি সামিট গ্রুপের মালিকানাধীন, অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট বাংলাদেশের। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ সামিটের সঙ্গে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি করে সরকার।
এফএসআরইউ হস্তান্তরের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রাই-ডকিং এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি শ্রেণিবিন্যাসকারী প্রতিষ্ঠানের (ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি) মাধ্যমে সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে এফএসআরইউটি আরও ১০ বছর পরিচালনার উপযোগী রয়েছে।
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আরও এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ জুলাই জিটুজি পদ্ধতিতে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) মাধ্যমে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এর আগে গত ১৯ জুন চীনা কোম্পানিটি টার্মিনালটি স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেয় বলে জানা গেছে।
সামিট এলএনজি টার্মিনাল-২ কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি এ এস এম নাজমুল হায়দার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সামিটের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী এসএলএনজি-২ প্রকল্পটি বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বুট) ভিত্তিতে হওয়ার কথা। এতে ১৫ বছরের পরিচালন মেয়াদ শেষে এফএসআরইউ, মুরিং সিস্টেম ও সমুদ্রতলস্থ পাইপলাইন কোনো খরচ ছাড়াই পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, চীনা কোম্পানির প্রস্তাবিত তৃতীয় এফএসআরইউর জন্য বর্তমানে যে বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও) কাঠামো বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে এফএসআরইউটি পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে না। ফলে পেট্রোবাংলা এফএসআরইউটির পূর্ণ মালিকানা পাবে না। এতে পেট্রোবাংলার প্রায় ৮৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে বলে দাবি করেছে সামিট।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের তথ্য তুলে ধরে চিঠিতে সামিট বলেছে, চীনা কোম্পানির প্রস্তাবিত তৃতীয় এফএসআরইউর দৈনিক চার্টার ভাড়া হবে প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার। এর বিপরীতে এসএলএনজি-২-এর ক্ষেত্রে এই ভাড়া হবে প্রায় ৩ লাখ ডলার।
অর্থাৎ, এসএলএনজি-২-এর চুক্তি বহাল রাখা হলে প্রতিদিন প্রায় ৪২ হাজার ডলার সাশ্রয় হবে। ১৫ বছরে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৩ কোটি ডলার।
সামিটের হিসাবে, মালিকানা হস্তান্তরের আর্থিক মূল্য এবং কম চার্টার ভাড়া মিলিয়ে মোট সাশ্রয় হবে আনুমানিক ১১০ কোটি ডলার।
সামিট এলএনজি টার্মিনাল-২ কোম্পানি লিমিটেড চিঠিতে আরও বলেছে, আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি এসএলএনজি-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে রয়েছে।
কোম্পানিটির দাবি, ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে ২ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে সামিট।
