যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি বেড়েছে ৬১%, শীর্ষ গ্রাহকের তালিকায় ১৭তম বাংলাদেশ
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের প্রচলিত এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ১৭তম বৃহৎ আমদানিকারক হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি বেড়ে ৫০ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২৭ বিসিএফ। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৬১ শতাংশ।
৩১৪ দশমিক ৬ বিসিএফ এলএনজি আমদানি করে সবচেয়ে বড় আমদানিকারক ছিল মিশর। এরপর রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শীর্ষ ২০ আমদানিকারকের তালিকায় ভারতের অবস্থান দশম। তবে পাকিস্তান এ তালিকায় জায়গা পায়নি।
ইআইএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রপ্তানি দৈনিক গড়ে ১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। সংস্থাটি ধারণা করছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রপ্তানি দৈনিক গড়ে ১৭ দশমিক ৩ বিসিএফ এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ১৮ দশমিক ৭ বিসিএফে পৌঁছাবে।
বাংলাদেশ এখনো এলএনজি ও ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরব থেকে এসব জ্বালানি আমদানি করে বাংলাদেশ।
ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে 'ফোর্স মেজর' বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কাতারএনার্জি পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানিয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিল অব্যাহত থাকবে। আর বাংলাদেশে সরবরাহের ক্ষেত্রে 'ফোর্স মেজর' পরিস্থিতির মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং 'ফোর্স মেজর' ঘোষণা করে।
এরপর থেকেই বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে ভুগছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
