ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— তানভীর আবেদীন ওরফে জুই (৪১), মো. মজিবুর রহমান (৬০) এবং মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, গত রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ধানমন্ডি ১২ নম্বর সড়কের 'ডিঙ্গী' রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মো. খোরশেদ আলম (৫০) নামের এক ব্যক্তি ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে তার গতিরোধ করে এবং টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় চিৎকার শুনে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে তানভীর আবেদীন ও মো. মজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করেন। আটকের পর তানভীরের দেহ তল্লাশি করে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মজিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে এই চক্রের অন্যতম সদস্য জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে। ধাওয়া শুরু হলে একজন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের অভিযানে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বাইরে এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত অন্যান্য অস্ত্র, যানবাহন এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
