সরকারি ক্রয় আইনের মাধ্যমে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ার অভিযোগ আইনমন্ত্রীর; সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত
সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে গত ১৭ বছর বিরোধী মতের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রেখে একটি 'সিন্ডিকেট' গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানিয়েছেন, সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের জন্য গঠিত উপকমিটি ইতোমধ্যে সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। শিগগিরই সংশোধিত আইনটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন 'দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণ' বিষয়ে এই নোটিশ উত্থাপন করেন।
নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, 'গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বড় রাস্তা নির্মাণের কাজ করে সড়ক বিভাগ। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে থাকে।'
তিনি যোগ করেন, 'এসব সংস্থাসহ সরকারি কেনাকাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত দরপত্র ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনাকাটা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ (পিপিএ) এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর) অনুসরণ করা হয়।'
আইনটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বলেও জানান তিনি।
ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে যেসব সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় পুরোপুরি সজাগ রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, 'জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা হবে।'
এরপর মোশারফ হোসেন প্রশ্ন করেন, 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এক বা দুই দিনে এই আইন সংশোধন করতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকার ছয় মাসেও কেন তা করতে পারছে না?'
জবাবে আবদুল মঈন খান বলেন, 'বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো করে গঠিত হয়নি। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আইন অনুযায়ী এই সরকার গঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ ছিল সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সেটি ছিল একটি বাস্তবতা।'
তিনি বলেন, 'ভালো কাজ করতে সময় লাগে। আইন অনুযায়ী এবং নিয়মের মধ্য দিয়েই কাজ করতে হয়।'
এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০০৮-এ তৎকালীন 'ফ্যাসিস্ট সরকার' এমন ব্যবস্থা করেছিল, যাতে গত ১৭ বছরে বিরোধী মতের কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারে।'
আইনের মাধ্যমেই তারা একটি সিন্ডিকেট ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, 'সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ সরকার গঠনের পরই নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। ওই উপকমিটি আইন সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে।'
তিনি জানান, শিগগিরই সংশোধিত আইনটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
