জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালন: ১৭ প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাকে সম্মাননা
'নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন'—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে পালিত হয়েছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সেবাদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতকরণে অনন্য ভূমিকা এবং সনদ সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩টি নিবন্ধন কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান নাগরিকসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি সেবাদানকারীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, 'সেবা শুধু কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে সেবাদানকারীর দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতার ওপর। প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, যন্ত্রের পেছনে থাকা মানুষটি কতটা আন্তরিক ও দায়িত্বশীল, সেটিই সেবার মান নির্ধারণ করে।'
তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, 'মিলনায়তনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব হলো তৃণমূলের কর্মীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। আপনারা নিজেরা দায়িত্বশীল হোন এবং মাঠের কর্মীরা যেন নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করুন।'
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, 'সঠিক পরিসংখ্যান ও তথ্যের ঘাটতি থাকলে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।'
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সাধারণ মানুষের অনীহা ও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, 'বর্তমানে দেখা যায়, কেবল স্কুলে ভর্তি কিংবা এনআইডির মতো জরুরি প্রয়োজনে মানুষ জন্ম নিবন্ধন করাতে আসে; আর প্রয়োজন না থাকলে অনেকেই নিবন্ধনের বাইরে থেকে যায়। একইভাবে, সম্পত্তির দলিল বা উত্তরাধিকারের মতো আইনি বাধ্যবাধকতার মুখে না পড়লে মৃত্যু নিবন্ধন করা হয় না—যার ফলে নানাবিধ অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়।'
সম্মাননা পেলেন যারা
শুদ্ধ নিবন্ধনের জন্য সিটি কর্পোরেশন শ্রেণিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন পুরস্কৃত হয়। পৌরসভা শ্রেণিতে সম্মাননা পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভা।
ইউনিয়ন পরিষদ শ্রেণিতে পুরস্কৃত ৫টি ইউপি হলো—চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদ ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, নরসিংদী সদর উপজেলার কাঠালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদ।
এছাড়া বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই সম্মাননা লাভ করে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে—সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে শ্রেষ্ঠ উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) হিসেবে ঢাকা জেলার উপপরিচালক এবং শুদ্ধ নিবন্ধনে শ্রেষ্ঠ উপপরিচালক হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক পুরস্কার অর্জন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রেণিতে শুদ্ধ নিবন্ধনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ই-গভর্ন্যান্স একাডেমি ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাস্তবায়িত ই-ফেক্টিভ গভর্ন্যান্স প্রকল্পের সহায়তায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
