একটি জোটের দিকে ঝুঁকলে অন্য পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে: মোঃ তানভীর হাবীব
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই আন্তর্জাতিক বিষয়ে তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে এসেছে। একই সাথে, বেশ কয়েকটি দেশের সাথে আমাদের অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই মূল প্রশ্ন হলো—এই নির্দিষ্ট জোটে যোগ দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু উপযুক্ত হবে।
আমরা যদি শেষ পর্যন্ত এতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই, তবে সেই সুযোগটিকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের একটি স্পষ্ট কৌশল থাকতে হবে। আমাদের বিদ্যমান সম্পর্কগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিতে এটিকে ব্যবহার করা উচিত।
বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই জোটের কিছু সুবিধাও থাকতে পারে। তবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি কেমন হবে এবং এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ঠিক রূপরেখা কী হবে—তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।
এই নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হবে? এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেমন হবে? দায়িত্ব ও ব্যয়ের ভাগাভাগি কীভাবে পরিচালিত হবে? এবং বাংলাদেশ এখানে কী ভূমিকা বা অবদান রাখবে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।
একই সাথে সমান অর্থনৈতিক সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে যায়। এই সংস্থাটি যদি এমনভাবে গঠিত হয় যা এর সদস্যদের উচ্চতর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান করবে, তবে বাংলাদেশও হয়তো এর সুফল পেতে পারে।
তবে আমরা যদি যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তবে অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর এর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তাও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি নির্দিষ্ট জোটের দিকে ঝুঁকে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই অন্য কোনো পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
এর যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে স্পষ্ট ও খোলামেলা যোগাযোগ রক্ষা করা অপরিহার্য হবে।
তাই বলা যায়, আমরা কীভাবে এগোব সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রস্তাবিত জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের যুক্ত করা একেবারেই আবশ্যক।
মোঃ তানভীর হাবীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ।
