ফুটপাত দখল করে হকার বসানো বা কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকার বসানো কিংবা অনুমতি ছাড়া ফুটপাত ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, অবৈধ দখল বন্ধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ের সামনের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে হকার, রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যা প্রকট। এসব সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'আজকের অভিযান কারও বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য বা জরিমানা করার জন্য নয়। মানুষকে বোঝানোই মূল উদ্দেশ্য। আইন অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
অভিযান দেখে অন্যান্য এলাকার মানুষও যাতে সচেতন হন, সেটিও এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, ফুটপাত ও সড়ক পরিচ্ছন্ন এবং চলাচলের উপযোগী রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো হকারকে ফুটপাতে বসতে দেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো দোকানপাটও অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।
তিনি বলেন, 'কোনোভাবেই রাস্তায় হকার বসতে দেওয়া হবে না। যেখানে সিটি করপোরেশনের অনুমতি থাকবে না, সেখানে ফুটপাতেও হকার বসতে পারবেন না।'
অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি থাকবে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কার্যক্রম বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অভিযানের আওতায় কারও ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না, ব্যবসা পরিচালনায় কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না, কোথাও বর্জ্য যথাযথভাবে পরিষ্কার হচ্ছে কি না কিংবা বিদ্যুতের অপব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও যৌথভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
অভিযানের আওতাধীন হটস্পটগুলোতেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেসব এলাকাতেও অভিযান হবে। হকার সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী হকারদের নির্ধারিত স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করার কাজও শুরু হয়েছে।
হকার ব্যবস্থাপনায় নেওয়া উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল এখনো দৃশ্যমান হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, উদ্যোগটি এখনো স্বল্পমেয়াদি পর্যায়ে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এর সুফল পাওয়া যাবে। মানুষ আগের তুলনায় সচেতন হচ্ছে, তবে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।
উচ্ছেদ অভিযানের পর দোকানি বা হকাররা আবার একই জায়গায় বসে পড়লে নিয়মিত মনিটরিং করা হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনিটরিং রাখা হচ্ছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সারাক্ষণ কোনো জায়গা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।
তাই উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আইন মেনে ফুটপাত ও সড়ক ব্যবহার করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
অভিযানের সময় দোকানিদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে আবদুস সালাম বলেন, অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক ব্যবহারকারীদের হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। গত ছয় মাস ধরে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'ছয় মাস আগে থেকেই তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বারবার জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই রাস্তায় হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং অবৈধভাবে ফুটপাত ব্যবহার করা যাবে না।'
এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অবৈধ দোকানিদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে।
