সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের ৫ দিনের রিমান্ড
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলাটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভিকটিম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালে ঘটনার পর থেকেই তার মা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ দাবিতে তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, ডন অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ডনের পক্ষে তার আইনজীবী ঢাকা বারের সেক্রেটারি কালাম খান, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেদিনই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়। মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
