মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার সিন্ডিকেট ও ‘ফ্যাসিস্টদের’ হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে: গোলাম পরওয়ার
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার একটি সিন্ডিকেট ও 'ফ্যাসিস্টদের' হাতে তুলে দিয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে অবস্থানরত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা নিজেদের পরিবারের স্বচ্ছলতার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তাদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, হয়রানি বন্ধ এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।'
তিনি বলেন, 'সম্প্রতি দেশের বাইরে শ্রমশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেটের আওতায় এনে সরকারের একটি অসাধু চক্র দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।'
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'গত দুই দিন আগে দুই দেশের সরকার মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত একটি সিন্ডিকেটভিত্তিক শ্রমবাজার ব্যবস্থা তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।'
গোলাম পরওয়ার বলেন, 'অতীতেও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠনের ফলে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।'
'এবারও আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা একজন সাধারণ শ্রমিক ও তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বড় বোঝা হবে,' বলেন তিনি।
এ অবস্থায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বার্থ রক্ষা, কম খরচে বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিশেষ ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে গঠিত সিন্ডিকেট ভেঙে বায়রার সদস্য ও ভালো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।'
এতে প্রতারণা বন্ধের পাশাপাশি হাজারো সাধারণ শ্রমিককে সম্ভাব্য শোষণ, অতিরিক্ত ব্যয় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, 'সহজ ও স্বল্প খরচে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা, নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপত্তা বিধান এবং প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব।'
তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দাবি করে তিনি বলেন, 'বিষয়টি উদ্বেগজনক।'
'অবিলম্বে সরকারকে জনস্বার্থের পরিপন্থী সকল কার্যক্রম থেকে সরে এসে নিরাপদ বৈদেশিক শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে হবে,' বলেন গোলাম পরওয়ার।
