ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ে পণ্ড: কনেপক্ষের দাবি ‘আস্ত খাসি’ নিয়ে বিবাদ, বর বলছেন ১০ গুণ কাবিনের চাপ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়েতে বরের জন্য সাজানো খাবারের থালায় 'আস্ত খাসি' না দেওয়ায় বিয়ে না করেই বরের ফেরত চলে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বরপক্ষ উল্টো কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত কাবিনের টাকার চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা দাবির অভিযোগ তুলেছেন। যার কারণে বাধ্য হয়ে বিয়ে না করেই বিয়ের আসর থেকে ফেরত যেতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন বর মো. জুনায়েদ।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জুনায়েদ জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার তোলাতলা গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ের সাথে নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। দুপুরে বর ও বরযাত্রী সবাই কনেপক্ষের বাড়িতে পৌঁছান। বরযাত্রীর খাওয়া-দাওয়া শেষে বরের সামনে 'খদর' (বরের জন্য সাজানো বিশেষ খাবারের থালা) দেওয়া হয়।
কনেপক্ষের অভিযোগ, ওই থালায় আস্ত খাসি না দেওয়ায় বর জুনায়েদ আপত্তি জানান। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কনেপক্ষের সাথে তর্কবিতর্কের পর বিয়ে না করেই আসর থেকে ফিরে যান বর ও বরপক্ষের লোকজন।
এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে আস্ত খাসি নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় বাধ্য হয়ে বিয়ে না করেই ফিরে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন বর জুনায়েদ মিয়া।
নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জুনায়েদ লিখেছেন, 'বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং কথা কাটাকাটি-তর্কাতর্কি শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়।'
ওই পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে আমাকে জবাই করে ফেলার।'
তবে কাবিনের অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। তিনি বলেন, 'খাসির বিষয়ে আপত্তি তোলার পর আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে কোনোভাবেই রাজি হয়নি। পরে তার আচরণ ও আমার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিয়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।'
এ বিষয়ে ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, 'ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ছেলেটি খাবার নিয়ে খারাপ আচরণ করেছে। এতে মেয়ের বাবা বিয়ে দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়।'
