এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণ একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি
বাংলাদেশকে এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণ একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।
তিনি বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ—দুটি প্রক্রিয়াকেই একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। এ দুটি উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।'
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের একটি অধিবেশনে 'এসডিজি ও সংস্কারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা'- শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আইরিন খান বলেন, 'এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের সামনে এখন এমন একটি সুযোগ এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে খুব কমই এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। তবে উত্তরণ যাতে সফল, টেকসই ও স্থায়ী হয়, সে জন্য সরকার উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে।'
আইরিন খানের মতে, 'উত্তরণের সময় বাড়ানোর আবেদন এবং এসডিজি বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়—দুটিই সরকারের ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বাড়তি চাপ তৈরি করবে।'
তিনি এটিকে সরকারের জন্য 'দ্বৈত প্রণোদনা' হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, 'এলডিসি উত্তরণের রোডম্যাপে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বাণিজ্য আলোচনা সহজ করা এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ।'
আগামী তিন বছরে এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করার পাশাপাশি এসডিজি বাস্তবায়নের গতিও বাড়াতে হবে বলে জানান আইরিন খান।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশকে এসডিজি বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে দ্রুত কাজ করতে হবে। কারণ দেশ ইতোমধ্যে অনেক সময় হারিয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তবে এসডিজি বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ এর লক্ষ্যগুলো অনেক বিস্তৃত এবং একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও দেশের মানুষের মধ্যে শক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই।'
এসব সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান আইরিন খান।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণের পথে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আরও জোরালো সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
আইরিন খান বলেন, পাশাপাশি দেশের ভেতরের অংশীদারত্বও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক এস এম আবদুল-আওয়াল বলেন, '২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দ্রুত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।'
এ জন্য সহজ শর্তের অর্থায়ন, ঋণ ছাড় এবং কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ করে প্রান্তিক ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্ব ও পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসডিজির শেষ পর্যায় এবং এলডিসি উত্তরণ—দুটি বড় পরিবর্তনের সময় একই সঙ্গে সামনে আসায় বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও।
এখন সময়মতো সংস্কার বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নিশ্চিত করাই হবে বড় বিষয়।
