বাংলাদেশ-ভারতের সব ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব: ভারতীয় হাইকমিশনার
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সব ইস্যুই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সোমবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক সকাল ১১টায় শুরু হয়।
একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এটি ছিল 'পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ টু পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ'। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটি তার প্রথম সাক্ষাৎ হলেও তার কাছে সেটি প্রথম সাক্ষাৎ বলে মনে হয়নি।
তারেক রহমানের আচরণের প্রশংসা করে ভারতীয় হাইকমিশনার তাকে 'খুবই ভালো, হাম্বল ও অন দ্য গ্রাউন্ড' হিসেবেও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, 'ইস্যু না থাকলে তো ডেমোক্রেসি থাকবে না। ইস্যু তো থাকবেই।'
তিনি বলেন, 'কোনো ইস্যু এই রকম না, যা আমরা সমাধান করতে পারি না। আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি, কোনো ইস্যু নেই যা আমরা বসে সেটেল করতে পারি না।'
দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকলে তা উভয় দেশের জন্যই 'উইন-উইন সিচুয়েশন' হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষও দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, 'আমরা শুধু সীমান্ত নয়, স্বপ্নও ভাগাভাগি করি।'
দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও ভালো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি দুই দেশের বিদ্যমান ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও আতিথেয়তার কথাও উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে গত দুই মাসে তিনি অনেক সম্মান, ভালোবাসা ও প্রীতি পেয়েছেন।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষই দুই দেশের সম্পর্ক ভালো দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
