সন্ত্রাসবিরোধী মামলা: মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানাসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী (৪০) ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ (৩৬) সংগঠনটির ছয় নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা (৪০), যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান (৪৭), সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল (৪০) ও হরী সরকার (৩৬)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিলেও সহযোগী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে তাদের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, আসামি শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদীর নামে একাধিক ওকালতনামা থাকায় তাদের জামিন শুনানি হয়নি। অপর চার আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, 'শান্তা ফারজানাকে আয়াস নামে একটি ছেলে চড় মারেন। এ কারণে তারা প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করেন। সেখানে তাদেরকে মারধর করেন। পরে হাসপাতালে গেলে সেখানেও মারধর করা হয়। এই চার জন ঘটনার সাথে জড়িত নন৷ তাদের জামিন প্রার্থনা করছি।'
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, 'আসামিরা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ভিন্ন একটা দল তৈরি করেন। সেখানে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলেন। এর প্রতিবাদ করলে আয়াসকে মারধর করেন।'
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামিদের এজলাসে তোলা হয়নি।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তির করা একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এজাহারে ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর ও বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। তাদের সংগঠনের নাম 'নতুন ধারা বাংলাদেশ'। আসামি শান্তা ফারজানা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে 'অবৈধ প্রধানমন্ত্রী' এবং জুলাই আন্দোলনকে 'জঙ্গি আন্দোলন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও শান্তা ফারজানা ও মোমিন মেহেদী অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, জুলাই-পরবর্তী নবগঠিত বিএনপি সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে দলটি টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার প্রেসক্লাবের সামনে শান্তা ফারজানাসহ নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জন উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল করে।
এ সময় বাদী এসডিএফের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াস এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা এর প্রতিবাদ করলে শান্তা ফারজানার নেতৃত্বে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকি স্টিক নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে জুলাই যোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল ও তাওহিদ রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া বাদী ও আল নুর মোহাম্মদ আয়াসকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় বাবুল সরদার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
