এক কোটি টাকা প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন রিজেন্টের সাহেদ
এক কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী গ্রহণ করে সেই টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার এক মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'মামলাটির বাদীর সঙ্গে আপোষের শর্তে পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় ১০ দিনের জন্য জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা থাকায় তিনি এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না।'
২০২০ সালের ১৩ জুলাই মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজের পক্ষে আসামি সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ।
বাদীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, '২০১৮ সাল থেকে এই মামলার বাদী আসামিকে বিভিন্ন সময় নির্মান সামগ্রী সরবরাহ করেন। আসামির কথা মতো বাদী পণ্য সরবরাহ করে থাকতেন। প্রথমে কিছু টাকা নগদ দিলেও পরবর্তীতে চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতেন। পণ্যের জন্য আসামি সাহেদ বাদীকে প্রাইম ব্যাংকের সর্বমোট এক কোটির ৪টি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাদী ওই চেকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকে কোনো টাকা নেই মর্মে ফেরত দেন।'
অভিযোগে আরও বলা হয়, 'বাদী আসামিকে এই বিষয় অবহিত করলে আসামি কালক্ষেপন করতে থাকেন। ২০২০ সালের ২৬ জুন আসামির কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে বাদীকে সাফ জানিয়ে দেয় যে, টাকা দিতে পারবে না এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে জানে মেরে ফেলবে।' ওই ঘটনায় বাদী উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, এক কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী গ্রহণ করে সেই টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রুহুল আমীন। তিনি বলেন, 'বাদীর সঙ্গে আপোষের শর্তে ১০ দিনের জন্য আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।'
গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের এক মামলায় জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, অস্ত্র, প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টিরও বেশি মামলা দায়ের হয়। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের এক মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে বিভিন্ন মামলায় জামিন লাভের পর প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হন তিনি।
