বরিশালে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
বরিশালের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ কোম্পানির শ্রমিকেরা দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ আট দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির কারখানার সামনে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের একটি অংশ বিসিক শিল্পনগরীর কয়েকটি কারখানার কাচ ভাঙচুর করেন।
পরে বিকেল ৪টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক মিছিল নিয়ে নগরের নতুনবাজার এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। সন্ধ্যা ৬টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল।
বিক্ষোভ চলাকালে ফরচুন সুজ কোম্পানির মালিক মো. মিজানুর রহমানের চাচাতো ভাই ইমরান হোসেন ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের একাংশ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করলেও নিয়ম অনুযায়ী ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয় না। এছাড়া গত দুই মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করেও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শ্রমিকরা। কর্মস্থলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে এবং নারী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও নেই।
শ্রমিকদের দাবিগুলো হলো- দুই মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, প্রতি মাসের বেতন সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান, বিকেল ৫টার পর কাজ করলে ওভারটাইম ভাতা নিশ্চিত করা, প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর, চলতি বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাস্তবায়ন, জেনারেল ম্যানেজারের পদত্যাগ, শ্রমিক পরিবহনের মানোন্নয়ন, কর্মস্থলে হয়রানি বন্ধ এবং নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও ক্যানটিন চালু করা।
এদিকে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে শিল্পনগরী ও নতুনবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে ফরচুন সুজ কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
