১৬ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনবে সরকার
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ছয়টি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত রেফারেন্স মূল্য, আমদানির পরিমাণ এবং পূর্বনির্ধারিত প্রিমিয়াম বিবেচনা করে এই প্রস্তাবটি পেশ করে, যা ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড, থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এই তেল আমদানি করা হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প এবং কৃষি খাতে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আসছে।
জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বগুড়া জেলায় ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজটি 'দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড' ও 'মেসার্স আহাদ বিল্ডার্স'-এর অনুকূলে সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি সারের বাফার গুদাম নির্মাণের জন্য ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ কাজের জন্য মেসার্স এমবিএল-আরইএল জেভিকে সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সংশোধিত লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুমোদন করা হয়েছে। সংশোধিত ট্যারিফ অনুযায়ী, প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের লেভেলাইজড ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.০৯৪৫ মার্কিন সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ইউনিট ৫.০২৮১ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবও কমিটি অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণে ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং পাওয়ার নেটওয়ার্ক প্রকল্পের জন্য ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে।
একইসঙ্গে 'ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোন ডেভেলপমেন্ট (প্রথম সংশোধিত)' প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক (কনসালটেন্সি) সেবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় পরিবর্তনের (ভ্যারিয়েশন) প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, পরামর্শক সেবার চুক্তিমূল্য ৮৩.১৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯.৮৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরামর্শক সেবা প্রদান করছে দক্ষিণ কোরিয়ার চেইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ইউশিন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্টস লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ উদ্যোগ।
