১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাজারে পণ্যের আগাম সংকট শনাক্ত করবে এআই: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত এআই প্ল্যাটফর্ম ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংকট আগেই শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি, খাদ্য ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করছে। এসব পণ্যের মধ্যে কোনটি দেশে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোন ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানির উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ করে বাজারে ঘাটতি দেখা না দেয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি না, সেটি পরের বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের জানতে হবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কখন কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক ভালো থাকবে।"
এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এআই ব্যবস্থা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আগাম জানাতে পারবে—কোন পণ্যের কখন ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করলে সুবিধা হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কেমন এবং কোন সময়ে পণ্য ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।
বাণাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। তবে এটি শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে যুক্ত করে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস প্রয়োজন। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।
সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
