গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা, গ্রেপ্তার ১
সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডিএমপির পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন তার সাবেক গাড়িচালক। মামলার পর আমিনুর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান।
তিনি টিবিএসকে বলেন, 'গতকাল রাতে ওবায়দুর রহমান নামের একজন পল্লবী থানায় মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।'
এদিকে পল্লবী থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে পল্লবী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সেই এমপিসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার 'রোজগার্ডেন টাওয়ার'-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু 'অপ্রীতিকর ভিডিও' সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালান। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা করেন। তখন তার মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
