তনু হত্যা মামলা: আরও দুই সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ (ডিএনএ) সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন সাবেক সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বী।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম ডিএনএ সংগ্রহের বিষয়ে আদালতের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ প্রদান করেন। তদন্তের স্বার্থে পিবিআই থেকে আবেদন করা হলে আদালত দুই সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেন।
সন্দেহভাজনদের পরিচয় সম্পর্কে জানা গেছে, জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। আর ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষ্মীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে চলছে। এর আগে এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ক্রস-ম্যাচ করা হয়েছিল।
এদিকে, মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম বর্তমানে কুয়েতে পলাতক রয়েছেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের নিকটবর্তী ঝোপের মধ্য থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও তনু হত্যার রহস্য উন্মোচন ও বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। এই নতুন ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ মামলার তদন্তে বড় কোনো অগ্রগতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
