নেট মিটারিং সম্প্রসারণে এনজিওগুলোকে কাজ করার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) নেট মিটারিং ব্যবস্থা বিস্তারে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেন, 'গ্রামীণ এলাকায় সৌরচালিত সেচ, নেট মিটারিং ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে এনজিওগুলো এগিয়ে এলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।'
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম আয়োজিত 'ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট'- শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।
এসময় জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, 'দেশের জ্বালানি সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যেই সরকার নতুন সোলার নীতিমালা অনুমোদন করেছে এবং বর্তমান মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে সমপরিমাণ জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া অর্থ দেশের অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা যাবে।'
তিনি আরও জানান, সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি ক্লাস্টারভিত্তিক প্রকল্প এবং ছাদভিত্তিক নেট মিটারিং এই দুই পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আর্থিক সুবিধা পাবেন।
এ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে এনজিওগুলোকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, 'বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো এখন জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়ন কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করছে। ফলে এনজিওগুলো সোলার, বায়ুশক্তি ও বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে সহজ শর্তে অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।'
মন্ত্রী বলেন, 'টাকা নেন, ব্যবসা করেন, টাকা ফেরত দিয়ে দেন। কনসেশনাল রেটে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।'
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই মাসে জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।'
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং সরকারকে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধিও সংকটকে আরও জটিল করেছে।
এসময় তিনি গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর দেশের উন্নয়নে অবদানের প্রশংসা করেন।
তবে সুশাসন নিশ্চিত করতে এনজিওগুলো পরিবারকেন্দ্রিক না করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনজিও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলে মন্ত্রী তাদের সেই অনুরোধ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
