গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অনুসন্ধান, কূপ খনন ও অফশোর কার্যক্রম জোরদার করছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন, সিসমিক জরিপ এবং অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আহ্বানসহ সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট বা এমএমসিএফডি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও উৎপাদন চলছে ২০টি ক্ষেত্র থেকে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, "নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে, আরও ৮টিতে কাজ চলছে। বাকি কূপগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।"
তিনি জানান, নতুন গ্যাসের সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্লক-৭ ও ৯-এ ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক বা ২ডি সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্লেষণাধীন।
পাশাপাশি হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনাসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকায় ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি সিসমিক জরিপের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ব্লক-১২ এবং হিঞ্জ জোন ও ফোরডিপ এলাকায়ও নতুন ২ডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা রয়েছে।
অফশোর অনুসন্ধান প্রসঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, "২০২৬ সালের ২৪ মে 'বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬'-এর আওতায় ১৫টি গভীর সমুদ্র এবং ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লকসহ মোট ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্থলভাগে নতুন অনশোর বিডিং রাউন্ড আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।"
মন্ত্রী আরও জানান, রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান ৫টি ড্রিলিং রিগের সঙ্গে আরও ২টি নতুন রিগ কেনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর একটি ২ হাজার এবং অন্যটি ১ হাজার ৫০০ অশ্বশক্তির।
তিনি বলেন, "১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ২৯টি কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।"
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন ড্রিলিং রিগ সংগ্রহ এবং চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে কম সময়ে আরও বেশি কূপ খনন সম্ভব হবে। এতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
