চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা, টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে পানি উঠে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটের রেললাইনে পানি ওঠা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
রেললাইনে পানি ওঠায় বর্তমানে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নগরীর মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসাসহ কয়েকটি এলাকায় রেললাইন তলিয়ে গেছে। গতকাল পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় আট ঘণ্টা ষোলশহর স্টেশনে আটকে থাকার পর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'চট্টগ্রাম–দোহাজারী প্রায় ৪৭ কিলোমিটার রেলপথকে প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দুই থেকে তিন ফুট পানি জমলেও রেললাইন তলিয়ে যাবে না এবং অতিবৃষ্টির মধ্যেও রেল যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হবে।'
তিনি বলেন, 'এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। কাজ শুরু হলে আমরা আশা করছি, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।'
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যাত্রীদের নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রেললাইনের কোথাও কোথাও প্রায় দুই ফুট পানি জমেছে। এ অবস্থায় ট্রেন চালানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।'
তিনি বলেন, 'বৃষ্টি কিছুটা কমে পানির উচ্চতা ১০ ইঞ্চির নিচে নেমে আসায় ট্রেন চালুর বিষয়ে আমরা চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।'
তিনি আরও জানান, অনলাইনে বা কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা সব যাত্রী নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের অর্থ ফেরত পাবেন।
রেলপথের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সরকার শুধু বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার নয়, নতুন রেলপথ নির্মাণ, লোকোমোটিভ ও কোচ বাড়ানো এবং রেলব্যবস্থার আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে একটি নতুন সরাসরি (কর্ড) রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা অংশে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে এবং যাত্রাসময়ে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট সাশ্রয় হবে।'
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন অবকাঠামো চালুর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীসেবা বাড়ানো যায়।'
তিনি বলেন, 'সরকার নদী, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। রেলওয়ের প্রতিটি স্টেশনের উন্নয়ন এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ চলছে।'
