৫ দিনের সফরে ঢাকায় জাইকা প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো
পাঁচ দিনের এক সরকারি সফরে আজ বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশে পৌঁছেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। বাংলাদেশে জাইকার কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সফরের প্রথম দিন আজ বিকেলেই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
জাইকা ও ইআরডি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরার দিয়াবাড়িতে স্থাপিত একটি নবনির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করবেন জাইকা প্রেসিডেন্ট। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সশস্ত্র জঙ্গি হামলায় নিহত জাপানি নাগরিকদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই হামলায় ৭ জন জাপানি নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি মোট ২৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
সফরকালে ড. তানাকা আকিহিকো অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
ইআরডি সূত্র আরও জানিয়েছে, বৈঠকে বর্তমানে স্থবির হয়ে থাকা বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের অচলাবস্থা নিরসনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে দরপত্রে অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবের অভিযোগে প্রায় দেড় বছর ধরে আটকে থাকা এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর ও কমলাপুর অংশ) এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর, গুলশান ও ভাটারা অংশ) প্রকল্পের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সভায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাইকার ঋণের সুদের হার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের ঋণের সুদের হার আগে ২.৩৫% থাকলেও গত এপ্রিল থেকে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫.০৫% পৌঁছেছে।
জাপান বাংলাদেশের সবচাইতে বড় দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি এ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে জাপানের মোট ওডিএ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৩৪.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ ও অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। জাইকা প্রেসিডেন্টের এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের অবিচল অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
