বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় ছাড় থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানির প্রাধান্য কমেনি: সানেম
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) বলেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) খাতের জন্য বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক প্রণোদনার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণে সমান্তরাল গুরুত্ব দেওয়ায় দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বুধবার (২৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মূল্যায়ন তুলে ধরে সংস্থাটি।
সানেম জানায়, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে দেশের ১০টি কৌশলগত অগ্রাধিকারের অন্যতম হিসেবে ঘোষণা করলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সংশোধিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ হার ছিল ২ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সংস্থাটি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী খাতের ওপর শূন্য শতাংশ কর হার বহাল রাখা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য কর রেয়াত এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত সোলার যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
এছাড়া বাজেটে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে এবং ইভি চার্জিং সরঞ্জামের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সানেমের মতে, এসব পদক্ষেপ পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে নীতিগত অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে।
তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং প্রকৃত বাজেট বরাদ্দের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বিদ্যুৎ বিভাগের মোট ব্যয়ের মাত্র ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) পেয়েছে জ্বালানি বিভাগের উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ।
সানেম আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সাম্প্রতিক কর সুবিধাগুলো মূলত ভ্যাট-কমপ্লায়েন্ট নিজস্ব-ব্যবহারকারী )সেলফ-কনজাম্পশন) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক এবং এবং পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের (পিপিএ) অধীনে পরিচালিত রিনিউয়েবল এনার্জি সার্ভিস কোম্পানি (রেসকো) মডেলের প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে অনেক আমদানিকারক, পরিবেশক, ইঞ্জিনিয়ারিং (ইপিসি) প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা এসব সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন।
সংস্থাটি বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানির প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থনেরও সমালোচনা করেছে। এর মধ্যে নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প, কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল-২) ইত্যাদিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সানেম কয়েকটি সুপারিশও করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকির একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানান্তর করা, ২০২৮ সালের পরও ব্যাটারি উৎপাদনে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং বায়ুশক্তি উন্নয়নের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা চালু করা।
