ভুয়া প্রতিনিধির সাথে চুক্তি: চট্টগ্রামে ২৫ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্প বাতিল করল চসিক
চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। মিশরের একটি কনসোর্টিয়ামের কথিত ভুয়া প্রতিনিধির সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর বুধবার (২৪ জুন) চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এটি বাতিল করা হয়।
চসিক সূত্র জানায়, ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস গত ২২ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) একটি চিঠির মাধ্যমে জানায়, কাউসার আলম চৌধুরী আসলে 'আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম'-এর কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি নন। মিশরীয় দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করে চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুয়া প্রতিনিধির সাথে করা এই চুক্তি কার্যকর রাখার আর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সে কারণে কনসোর্টিয়ামের পক্ষে দাবিকৃত প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরীর সাথে করা পূর্বের সকল সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের অনুলিপি ইতিমধ্যে বিডা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগসহ চসিকের প্রধান প্রকৌশলী এবং আইন কর্মকর্তাকে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে 'আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম'-এর সাথে চসিকের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় নিজেকে এই কনসোর্টিয়ামের অনুমোদিত প্রতিনিধি দাবি করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন কাউসার আলম চৌধুরী। পরবর্তীতে একই বছরের ২৪ জুন প্রকল্পটির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২৫ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সহযোগিতার জন্য বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বরাবর ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন চসিক মেয়র। চসিকের চিঠির প্রেক্ষিতে বিডা এই বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ বরাবর চিঠি প্রেরণ করে। এর ফলে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রকল্পটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে প্রতিনিধির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ভেস্তে গেল।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর তীব্র যানজট নিরসনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) একটি পরিবহন 'মহাপরিকল্পনা' তৈরির কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা সংস্থা 'কোইকা' ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৭০ দশমিক ৬৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সম্প্রতি ডিটিসিএ-এর একটি উচ্চপর্যায়ের দল চট্টগ্রামের ট্রাফিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে। ডিটিসিএ জানিয়েছে, যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামে শেষ পর্যন্ত মেট্রোরেল, লাইট রেল (এলআরটি) নাকি মনোরেল হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন শুরু থেকেই চট্টগ্রামে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। এ লক্ষ্যে ডিটিসিএ-এর কাছে চসিকের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও জমা দেওয়া হয়েছে। মেয়রের লক্ষ্য ছিল, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে আগামী বছরই মনোরেলের মূল কাজ শুরু করা।
