ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, চট্টগ্রামে ৭ চিকিৎসক ও হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে ১০ দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ও সাত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন শিশুটির মা আমাতুল মাকনুন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ মে জন্ম নেওয়া শিশুটি জন্মের পর সামান্য শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে তাকে চট্টগ্রামের সাজিনাস হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ৩০ মে শিশুর হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পেয়ে স্বজনরা বিষয়টি চিকিৎসকদের জানালে তারা সেটিকে গুরুত্বহীন বলে জানান। তবে পরদিন ব্যান্ডেজ খুলে দেখা যায়, শিশুটির হাতের তালু কালো হয়ে গেছে এবং আঙুলে পচন ধরেছে।
শিশুটির মা অভিযোগ করেন, ১ জুন শিশুর অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং দুই হাতের আঙুলে গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। এ সময় চিকিৎসকেরা শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সময় সংক্রমণ পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি এবং রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শিশুটির সংক্রমণ শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১৮ জুন চট্টগ্রাম আদালতে হাসপাতালের পরিচালকসহ সাত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেন আমাতুল মাকনুন। মামলায় চিকিৎসা অবহেলার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—হাসপাতালের সহযোগী কনসালট্যান্ট আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন মো. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন মো. ফজলে মারুফ, ল্যাপারোস্কপিক সার্জন মো. তামিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি এবং পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী।
অভিযোগে বলা হয়, ক্যানুলা ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে শিশুর হাতে সংক্রমণ ও গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। পরে এক পর্যায়ে হাত কেটে ফেলা হলেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দেওয়া ও অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, শিশুটি অন্য হাসপাতাল থেকেই জটিল অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি।
এ ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ১৪ জুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
