চট্টগ্রামে আমানত ফেরতের দাবিতে ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের রোডমার্চ
একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ ফেরত এবং লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে চট্টগ্রামে রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারীরা।
বুধবার দুপুরে 'সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ'-এর ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন আমানতকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে আমানতকারীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ তুলতে পারছেন না। এতে অনেক পরিবার চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
তিনি বলেন, "সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত।"
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। ১০ এপ্রিল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি হলেও সেখানে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে আমানতকারীরা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।''
সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— হেয়ার কাট নীতি (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিল করে আমানতকারীদের পূর্ণ অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক করা, এফডিআর, ডিপিএস ও অন্যান্য আমানতের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং পূর্বঘোষিত ও চুক্তিভিত্তিক মুনাফার হার বহাল রাখা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, "আমাদের মধ্যে কেউ চাকরিজীবী, কেউ প্রবাসী, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জীবনের সঞ্চয়, পেনশনের টাকা, জমি বিক্রির অর্থ কিংবা প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স আমরা ব্যাংকে রেখেছিলাম ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু সেই আমানত এখন আমরা ফিরে পাচ্ছি না।"
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আমরা সাধারণ আমানতকারী। আমাদের কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক শক্তি নেই। দেশের জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রতিই আমাদের ভরসা। আমরা চাই, আসন্ন বাজেট ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং দ্রুত এই সংকটের কার্যকর সমাধান করা হোক।"
উল্লেখ্য, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকে হেয়ার কাট নীতি বাতিল ও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবিতে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন আমানতকারীরা।
ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। আমানতকারীদের দাবি, এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে চট্টগ্রামে এ পাঁচ ব্যাংকের অন্তত নয়টি শাখায় তালা দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আমানতকারীরা।
