উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে; ব্যারেজের ৪৪ গেট খোলা, বন্যার শঙ্কা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয় প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। বর্তমানে তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিস্তা ছাড়াও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী—সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কমলাকান্দা স্টেশনে পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো জানায়, আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর পরবর্তী দুই দিন বৃষ্টিপাতের মাত্রা আরও বেড়ে 'অতি ভারি' রূপ নিতে পারে। এর ফলে উত্তরের জেলাগুলোর নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে ২৩ জুন সকাল ৬টায় পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। সকাল ৯টায় তা ১০ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিকাল ৩টায় পানিপ্রবাহ বিপৎসীমা (৫২.১৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৫২.১৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়, যা বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে হঠাৎ উজানের ঢল বাড়তে শুরু করায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির চাপ তৈরি হয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বন্যার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) গেট খুলে রাখা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবোর সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
