বাজেটে সংস্কারমুখী উদ্যোগের ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবায়নে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি রয়েছে: র্যাপিড
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংস্কারমুখী উদ্যোগের বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও এর বাস্তবায়নে বড় ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি রয়েছে। আর এটি বাজেটের বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার এক আলোচনায অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা এ কথা বলেন।
উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা ও নীতি-সমন্বয় প্রতিষ্ঠান র্যাপিড ঢাকার সিআইআরডিএপি মিলনায়তনে বাজেট ২০২৬-২৭: সংস্কারের বার্তা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তবায়ন ঝুঁকি শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক। তিনি বাজেটের কয়েকটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠনভিত্তিক থ্রি-আর কাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে মধ্যমেয়াদি ব্যয় প্রতিশ্রুতি এবং উৎসে করকে অগ্রিম আয়কর হিসেবে গণ্য করার মতো ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজেটে উল্লেখিত ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির হিসাব প্রকৃত অর্থায়ন ঘাটতির তুলনায় অনেক কম দেখানো হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, "২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘোষিত ঘাটতি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বাস্তবসম্মত কিছু অনুমান ধরলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকৃত অর্থায়ন ঘাটতি প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং বৈশ্বিক সহায়তা প্রবাহ দ্রুত কমে যাওয়ায় বৈদেশিক অর্থায়নেও ঝুঁকি রয়েছে।
ড. রাজ্জাক বাজেটে উচ্চাভিলাষী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়ারও সমালোচনা করেন। তার মতে, প্রবৃদ্ধির আগে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি।
তিনি বলেন, "পুনরুদ্ধার অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেটি হতে হবে স্থিতিশীলতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। নির্ভরযোগ্য রাজস্ব আহরণ ও বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনা ছাড়া ব্যয় বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘায়িত হতে পারে, বেসরকারি বিনিয়োগ সংকুচিত হতে পারে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুর্বল হতে পারে এবং টেকসই পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হতে পারে।"
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বাজেটে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেওয়াকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি কিছু কাঠামোগত অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "আমাদের করপোরেট করহার এখনও ২৭ শতাংশ, যেখানে ভিয়েতনামে তা ২০ শতাংশ। যদি সত্যিই আমরা বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই, তাহলে অন্তত ধাপে ধাপে এই হার কমানোর একটি স্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিকস ব্যয় বিশ্বের অন্যতম উচ্চ। জলবায়ুজনিত ধাক্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে আবৃত গুদাম সুবিধা এবং শক্তিশালী লজিস্টিকস অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার। তারা শ্রম, লিঙ্গসমতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
