ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢলে মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত
ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দেশের প্রধান এই পর্যটন কেন্দ্রে আজ রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা সমুদ্রসৈকতে আসতে শুরু করেন। আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাবণী, সি-গাল, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।
ঈদের প্রথম কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর আজ ভোরের বৃষ্টিতে আবহাওয়া মনোরম হয়ে ওঠায় পর্যটকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ দেখা গেছে। তাদের কেউ সমুদ্রে গোসল করছেন, কেউ সৈকতে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ ঘোড়ায় চড়া বা বিচ বাইক চালানোর মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে মেতেছেন। অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।
সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, 'আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ২ লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন।'
তিনি আরও জানান, ঈদের দিন পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও পরদিন থেকে তা বাড়তে শুরু করে এবং আজই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভিড় রেকর্ড করা হয়েছে৷ অধিকাংশ পর্যটক সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমেছেন, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি বলেন, 'ফলে এই চার দিনে সৈকতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।'
কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, ঈদের ছুটির প্রথম চার দিনে কক্সবাজারে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক এসেছেন। শহরের ৫০০টিরও বেশি হোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ এই সময়ে বুকড ছিল।
অনেক পর্যটক জানিয়েছেন, ব্যস্ত নাগরিক জীবন থেকে মুক্তি পেতেই তারা সৈকতে এসেছেন।
ঢাকা থেকে আসা কবিরুল আনোয়ার বলেন, 'সমুদ্র যেন এক জাদুকরী সম্পর্কের নাম৷ যতবারই এখানে আসি, মন ভরে যায়।'
পরিবার নিয়ে আসা অনাবিল হক নামে আরেক পর্যটক জানান, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে তিনি ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, 'সমুদ্র, ঠান্ডা বাতাস এবং মনোরম আবহাওয়া ভ্রমণটিকে আনন্দদায়ক করে তুলেছে।'
লুৎফা বেগম সৈকতে ঘোড়ায় চড়া এবং পানিতে খেলাধুলা দারুণ উপভোগ করছেন বলে জানান। অন্যদিকে ওয়াসিফ কবিরের মতে, সমুদ্রতীরের ঠান্ডা পরিবেশ তাকে গরম থেকে স্বস্তি দিয়েছে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাব-ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম জানান, বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াড, কুইক রেসপন্স টিম, মোবাইল টিম এবং স্ট্যান্ডবাই ইউনিট পুরো ছুটির সময়ে কাজ করছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সব ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও জোয়ার এনেছে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর বলেন, 'হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন খাত, শপিং সেন্টারসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা পর্যটক বৃদ্ধিতে উপকৃত হচ্ছেন।'
তার ধারণা, এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. এ মান্নান জানান, হোটেল কক্ষের ভাড়া এবং খাবারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
