ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল, যাত্রীদের চাপে বিপর্যস্ত যাতায়াত ব্যবস্থা
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হওয়া টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। ফলে রাজধানীজুড়ে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে।
সকালের প্রথম প্রহর থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের মতো প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আগে বাড়ি ফিরতে উদগ্রীব মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
যাত্রীরা যানজট ও বিলম্বের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করেছেন। একই সময়ে রাজধানীর সাধারণত ব্যস্ত পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, গুলশান ও বিজয় সরণি এলাকা তুলনামূলকভাবে ফাঁকা দেখা গেছে, আর মেট্রোরেলেও যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম ছিল।
বৃষ্টি ও ভাড়া নিয়ে অভিযোগের মাঝেই সদরঘাটে জনস্রোত
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদযাত্রীর ঢল ও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের চরম ভিড় ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি নৌরুটে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা–বরিশাল ডেক ভাড়া ৪৫০–৪৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮০–৫০০ টাকা হয়েছে, ঢাকা–চাঁদপুর রুটে ভাড়া ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৫–১৯৫ টাকা এবং ঢাকা–ভোলা রুটে ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮০–৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রতি কিলোমিটার ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার থেকে শুরু হওয়া বিরতিহীন বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে গুলিস্তান–সদরঘাট সড়কে যাতায়াত পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় যাত্রার সময় বেড়ে গেছে। যাত্রীরা ভেজা পন্টুন, জনবহুল শেড ও পিচ্ছিল রাস্তায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন।
বরিশালগামী যাত্রী আবু রায়হান বলেন, 'আগের চেয়ে ভাড়া বেশি, কিন্তু ঈদে তো বাড়ি যেতেই হবে।'
তবে কিছু লঞ্চ অপারেটর অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পারাবত-১২ লঞ্চের ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি মূল্যের সমন্বয় হলেও ভাড়া অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রাখা হয়েছে। অন্য এক যাত্রীও জানিয়েছেন, তিনি নির্ধারিত সরকারি ভাড়াই পরিশোধ করেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৩৮টি নৌরুটের মধ্যে ৩৩টি চালু রয়েছে এবং ঈদযাত্রার জন্য ১৭০ থেকে ১৮০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে ব্যাপক ভিড়
সকাল থেকেই গাবতলী বাস টার্মিনালে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে, অনেক যাত্রী মহাসড়কের যানজটে আটকে পড়া বিলম্বিত বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাইদ হোসেন বলেন, সড়কে যানজটের কারণে বাস আসতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, 'ফরিদপুর থেকে গাবতলীর উদ্দেশে আসা একটি বাস এখনো মানিকগঞ্জেই আটকে আছে।' তিনি আরও জানান, ২৭ মে পর্যন্ত অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
যাত্রীরা কিছু রুটে হঠাৎ করে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগও করেছেন।
পাইকগাছাগামী এক যাত্রী বলেন, তিনি সাধারণত প্রায় ৭০০ টাকার টিকিট ১ হাজার টাকায় কিনেছেন।
এদিকে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড়ের পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে সারাদিন ধরে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল, অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় ছিলেন।
কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ঈদের আগে পরিবহন কোম্পানিগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। অনুমোদিত ৭৯০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করায় আহাদ ট্রান্সপোর্টকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে।
কমলাপুরে ট্রেন বিলম্বে যাত্রীদের ভোগান্তি
কমলাপুর রেলস্টেশনে ব্যাপক যাত্রীচাপের মধ্যে অন্তত ১৫টি ট্রেনের মধ্যে পাঁচটির বেশি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি।
ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় ৩০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে, আর নীলসাগর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৯০ মিনিটেরও বেশি বিলম্বে ছেড়েছে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস, তিতাস কমিউটার ও একতা এক্সপ্রেসও বিলম্বিত হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, পরিচালনাগত জটিলতা এবং কিছু রেললাইনে খড় শুকানোর মতো অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে ট্রেনগুলোকে কিছু এলাকায় গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছে।
