শেষ কর্মদিবসে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঈদযাত্রার চাপ সামলাতে ব্যাপক প্রস্তুতি কর্তৃপক্ষের
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। এরই মধ্যে শেষ কর্মদিবস গতকাল (২৪ মে) থেকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটির আগে রোববারই ছিল শেষ কর্মদিবস। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঢাকা ছাড়তে লাখো মানুষের চাপ দেখা যায়।
সকাল থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিকরা দাবি করেন, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো অর্থ নিচ্ছেন না। তবে অনেক যাত্রী পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন।
মাগুরাগামী যাত্রী হাসিবুল হাসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, সাধারণ সময়ে তার ভাড়া ৬৫০ টাকা হলেও এবার তাকে ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। কারণ পরিবহন কর্তৃপক্ষ তার নামার স্থানের পরিবর্তে শেষ গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া নিয়েছে।
তবে কিছু যাত্রী তুলনামূলক কম ভাড়া বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। কুমিল্লাগামী যাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, তার ভাড়া ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং বেশিরভাগ বাস সময়মতো ছেড়ে গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেকে আগেই পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে চাপ কিছুটা কম।
চুয়াডাঙ্গাগামী যাত্রী মেহেদী হাসান বলেন, তিনি অগ্রিম ৭৫০ টাকায় টিকিট কেটেছেন এবং ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোনো ভাড়া দিতে হয়নি।
এদিকে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের চাপও বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করবেন বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ সময়ে এই সংখ্যা থাকে প্রায় ৩২ হাজার।
কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের ভোগান্তি এড়াতে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে।
দুপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলেও পারাবত এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছেড়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে।
নৌপথেও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সদরঘাট টার্মিনালে ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে।
ঈদযাত্রার চাপের সময় সদরঘাটে ভিড় কমাতে রোববার থেকে বসিলা ও শিমুলিয়া ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
এদিকে মহাসড়কে যানজট কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংক লরি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে কোরবানির পশু, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও জ্বালানিবাহী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সড়কের পাশে যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ পার্কিং এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে নির্দেশনা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ আটটি প্রধান মহাসড়কে ১১৩টি যানজটপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যানজট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে।
র্যাব জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং গবাদি পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে মহাসড়ক ও পশুর হাটগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
