বিনিয়োগে দেশীয় উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে জোর দিচ্ছে সরকার: জোনায়েদ সাকি
সরকার বিনিয়োগে দেশীয় উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
তিনি বলেন, ''বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।''
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে 'কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার'- শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় জোনায়েদ সাকি বলেন, ''বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো 'সবার আগে বাংলাদেশ' এবং জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।''
তিনি বলেন, ''প্রশাসনিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। দেশের প্রশাসনকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।''
তিনি আরও বলেন, "সরকার এখন পারফরম্যান্সকে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি করতে চায়। রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে কে কতটা কাজ করতে পারছে, সেটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।''
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ''বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট।''
তিনি বলেন, ''সদ্য অনুমোদিত তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঘোষিত হয়েছে। এর আগের বছরের সংশোধিত এডিপি দুই লাখ কোটি টাকা যার বাস্তবায়ন হার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এটা লুকানোর কিছু নেই।''
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, ব্যয় বৃদ্ধি, সমন্বয়ের অভাব এবং 'ইনফ্লেটেড বাজেট' বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ''অনেক সময় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফলও পাওয়া যায় না। ফলে জনগণের অর্থের অপচয় ঘটে।''
বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''যেকোনো মূল্যে বিনিয়োগ সরকারের নীতি নয়। বরং এমন বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়া হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করবে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াবে।''
তিনি আরও বলেন, ''সরকার ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। লাইসেন্সিং জটিলতা কমানো, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা এবং বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।''
প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রশ্নকে এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মেট্রোরেল, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশকে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে পরনির্ভরশীল হয়ে পরবে বলে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক ফল পেতে হলে মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির শর্ত নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ''অনেক দেশ এসব শর্ত মেনে সফল হয়েছে, বাংলাদেশকেও সেই পথে এগোতে হবে।''
