লাইসেন্স পর্যালোচনার পর মাত্র ৫০০-৬০০ রিক্রুটিং এজেন্সি যোগ্য বিবেচিত হতে পারে: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে মানদণ্ড পূরণ করতে পারে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০টি। এ কারণে সরকার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স ব্যাপক মূল্যায়নের পরিকল্পনা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আয়োজনে 'ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন' শীর্ষক প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'বর্তমানে আমাদের প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং লাইসেন্স রয়েছে। সঠিক মূল্যায়ন করা হলে হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০টির বেশি এজেন্সি যোগ্য বিবেচিত হবে না।'
তিনি জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই উদ্যোগ বৃহত্তর পরিসরে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধের প্রচেষ্টার অংশ।
নুর অভিযোগ করেন, অনেক এজেন্সি রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশের মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়েছে। পরে তারা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৈতিক নিয়োগ ও নিরাপদ বিদেশগমনের ক্ষেত্রে যেসব এজেন্সির ইতিবাচক রেকর্ড রয়েছে, তাদের উৎসাহিত করা হবে। অন্যদিকে পাচার ও শোষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনিয়মিত অভিবাসনের রুট—বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইউরোপগামী পথ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নুর বলেন, অনেক বাংলাদেশি একাধিক দেশ ঘুরে পর্যটক ভিসায় লিবিয়ায় পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন।
তিনি আরও বলেন, সেখানে তারা প্রায়ই অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যসংকট, নির্যাতন এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং ইতালিসহ গন্তব্য দেশগুলোর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
প্রতিমন্ত্রী অভিবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বছরে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান, যা জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশে ফিরে আসা অনেক অভিবাসী মানসিক ট্রমা ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়েন।
নুর বলেন, সরকার পুনর্বাসন কর্মসূচির বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ সহায়তা পেয়েছেন বলে জান্যেছেন তিনি।
নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ট্রাভেল এজেন্সি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের সহ-অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে পরিচালিত 'ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)' প্রকল্পের দেশব্যাপী অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদেশফেরত অভিবাসী সেলিনা বেগম ও সোহেল রানাসহ অন্যরা দেশে ফিরে জীবন নতুন করে গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি, কারণ সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক।
তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার ব্র্যাকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
