ঈদ মৌসুম ঘনিয়ে এলেও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মসলা ব্যবসায় মন্দা
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এবার কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। আমদানিনির্ভরতা, অস্থির বাজারদর, ক্রেতা সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা জটিলতার কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
টিবিএসকে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, প্রতি বছর ঈদের আগে যে বিপুল চাহিদা থাকে, এবার তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজার পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দুর্বল; বিক্রি যেমন কমেছে, তেমনি বাজারে ক্রেতা সমাগমও অনেক কম।
মসলা ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দীন বলেন, 'এই বছরের মতো লস কখনো হয়নি। ঈদের মৌসুমেও বাজারে সেই জমজমাট অবস্থা নেই। বিক্রি কম, অথচ খরচ ঠিকই আছে। প্রতিদিনই লোকসান গুণতে হচ্ছে।'
ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আগে খাতুনগঞ্জে এসে পাইকারি মসলা কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন, কিন্তু এখন তাদের বড় অংশই অনুপস্থিত। এতে পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা ও ক্রেতা উভয়ই কমে গেছে।
লজিস্টিক সংকট ও বাণিজ্য পথের পরিবর্তন
ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনের যানজট ও লজিস্টিক জটিলতাও এই পতনের আংশিক কারণ। ট্রাক প্রবেশ, পণ্য খালাস ও পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় খরচ ও অপেক্ষার সময় বেড়েছে। ফলে অনেক খুচরা বিক্রেতা পাহাড়তলী ও ফেনীর মতো বিকল্প পাইকারি কেন্দ্রের প্রতি ঝুঁকছেন।
তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা আমদানিকৃত পণ্যের একটি বড় অংশ এখন সরাসরি চূড়ান্ত গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে, ফলে খাতুনগঞ্জকেন্দ্রিক ঐতিহ্যবাহী পাইকারি নেটওয়ার্ক এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং জাতীয় পর্যায়ে মসলা বিতরণে এর ঐতিহাসিক ভূমিকা দুর্বল হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী মো. হারুন বলেন, 'ব্যবসার অবস্থা খুবই নাজুক। বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। ক্রেতার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ঈদের স্বাভাবিক ভিড় আর নেই। কিছু অবৈধ পণ্যের প্রবাহও বৈধ আমদানিকারক ও পাইকারদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।'
দামের অস্থিরতায় লোকসান বাড়ছে
ব্যবসায়ীরা জানান, মসলার দামে তীব্র ওঠানামা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। বিশেষ করে এলাচের দাম এক সপ্তাহে প্রতি কেজিতে প্রায় ৬০০ টাকা কমে গেছে, ফলে বেশি দামে কেনা ব্যবসায়ীরা বড় লোকসানে পড়েছেন।
এলাচের দাম কেজিপ্রতি ৪,৩০০ টাকা থেকে কমে প্রায় ৩,৭০০ টাকায় নেমেছে।
অতিরিক্ত সরবরাহ ও দুর্বল চাহিদা
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, স্থিতিশীল আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুতের কারণে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন, 'বাজারে ঈদ-সম্পর্কিত পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আমদানি ও মজুত স্বাভাবিক, তাই কোনো সংকট নেই। বরং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমছে।'
মহিউদ্দিন আরও বলেন, 'ক্রেতার চাপ কম এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা দাম ধরে রাখতে পারছেন না। অনেকেই আশঙ্কা করছেন দাম আরও কমতে পারে, তাই কেউ কেউ ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি এড়াতে লোকসান দিয়েই বিক্রি করছেন।'
